Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এবার খাদ্যের ‘অধিকার’ও বন্ধ করবে মোদি সরকার? রেশন গ্রাহক কমাতে ব্যাংকে টাকা

তবে কি এবার খাদ্যের ‘অধিকার’ও খতম করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি?

এবার খাদ্যের ‘অধিকার’ও বন্ধ করবে মোদি সরকার? রেশন গ্রাহক কমাতে ব্যাংকে টাকা
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তবে কি এবার খাদ্যের ‘অধিকার’ও খতম করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি? চাল-গমের পরিবর্তে রেশন গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি খাদ্যশস্যের দাম (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও খাদ্যমন্ত্রককে বলা হয়েছে, রেশন খাতে পয়সা বাঁচান। চণ্ডীগড়, লাক্ষ্মাদ্বীপ, পুদুচেরি, মহারাষ্ট্রের একাংশে ডিবিটি শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১১৩ কোটি টাকা ট্রান্সফারও হয়েছে। একইপথে এবার গোটা দেশে তা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

২০২৪ সালে লোকসভার ভোটের লক্ষ্যে গরিবদের মনজয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বড়ো মুখ করে বলে তো দিয়েছেন, পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন। কিন্তু সরকারের ভাঁড়ার থেকে যে ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন চিন্তায় পড়েছে সরকার।  তাই কীভাবে রেশন গ্রাহক কমানো যায়, খাদ্যশস্যর পরিবর্তে ডিবিটি, ফুড ভাউচার দিয়ে প্রকৃত লেনদেনে নজরদারির মাধ্যমে সেব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রেশন দোকানদারদের একাংশও ভুয়ো কার্ডে রেশন দিয়ে কমিশন কামায় বলেও সন্দেহ কেন্দ্রের। তাই স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ‘ই-রুপি’ নামে ডিজিটাল কারেন্সি তৈরি করেছে। সেটি এক একজন গ্রাহকের নামে একমাসের মেয়াদ করে মোবাইলে পাঠানো হবে। সেই লেনদেনে ঩দিল্লিতে বসে কেন্দ্র জেনে নেবে, কে কখন কোন দোকান থেকে নিলেন কত খাদ্যশস্য? এক বছরের মধ্যে তা গোটা দেশে চালুর জন্য মন্ত্রকে বিশেষ নোট তৈরি হয়েছে।

যদিও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তিনি বলেন, রেশন দোকানদারদের রুটি রুজি কেড়ে নিতে চাইছে মোদি সরকার। কার্ড দেয় রাজ্য সরকার। দোকানদারদের ভূমিকাই নেই। কার্ডের ভিত্তিতে খাদ্যশস্য দিয়ে কমিশন পাই। ডিবিটি হলে সেই টাকায় গ্রাহক রেশনই নেবেন, এমন গ্যারান্টি কোথায়? ই-রুপির লেনদেনেও সমস্যা হবে।

তবে মোদি সরকারের লক্ষ্য রেশন গ্রাহক কমানো। এমনিতেই সরকার মুখে প্রচার করে ৮১ কোটি ৭১ লক্ষ গরিবকে বিনামূল্যে রেশন দিই। বাস্তবে পায় কিন্তু ৭৯ কোটি ৪৪ লক্ষ। বলছে সরকারি তথ্যই। এই সংখ্যা আরও কমাতে চাইছে। তাই আয়কর, বাহন পোর্টাল, জিএসটি নাম্বার, সিবিডিটি ইত্যাদির মাধ্যমে অযোগ্যদের খোঁজা হচ্ছে। আধার কার্ড পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, কোন রেশন গ্রাহক প্রয়াত।  তবে এই কাজে নেমে ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ বেরিয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, সিংহভাগ ডুপ্লিকেট রেশন কার্ডই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে। সেই কার্ড দিয়ে সরকারের বিনামূল্যের রেশন তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে ৭৬ হাজার ৩৬৩ টি ডুপ্লিকেট রেশন কার্ডের সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে সর্বাধিক বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে। সংখ্যাটি ৩০ হাজার ২৪৮। রয়েছে হরিয়ানা (১৬ হাজার ৪৬), রাজস্থান (৪ হাজার ৯৯০), মধ্যপ্রদেশ (৩ হাজার ৯৬৩), ওড়িশা (১ হাজার ৩৯৪), উত্তরাখণ্ড (৩ হাজার ৯৯৭), অসম (১৪১), বিহার (২ হাজার ৮৮১), মহারাষ্ট্র (৩৭১), ত্রিপুরা (১৩)। বাদ নেই গুজরাতও। সেখানে ১২৪ টি ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড পাওয়া গিয়েছে। ফলে কোথায় মুখ লুকোবে কেন্দ্র!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ