নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার মুম্বইয়ের ঘটনার পরেই রেল বোর্ডের স্ক্যানারে চলে এসেছে কলকাতা শহর এবং শহরতলির লোকাল ট্রেন পরিষেবাও। মুম্বই এবং কলকাতা-শহরতলির পাশাপাশি দেশের আর কোন কোন শহরে লোকাল ট্রেনই ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তারও বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে রেলমন্ত্রক। বিশেষত কলকাতা শহর এবং শহরতলিতে লোকাল ট্রেনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ঠিক কী ব্যবস্থা রয়েছে? রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের খবর, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে এই ব্যাপারে আগামী দিনে সচিব পর্যায়ের বৈঠকও করতে পারে বোর্ড। এদিন মুম্বইয়ে দুর্ঘটনার পরই শহরের সমস্ত লোকাল ট্রেনে স্বয়ংক্রিয় খোলা বন্ধের সুবিধে থাকা দরজা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু একই বন্দোবস্ত কি বাংলাতেও করা সম্ভব? সরকারি সূত্রের খবর, এই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে রেল বোর্ড। কারণ বিশেষত অফিস টাইমে এবং অফিস ছুটির সময়ে কলকাতা শহর ও শহরতলির লোকাল ট্রেনগুলিতেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাত্রাছাড়া যাত্রী ভিড় হয়। মুম্বইয়ের মতোই কলকাতা শহর ও শহরতলির লোকাল ট্রেনেরও পাদানিতে ঝুলে যাতায়াত করার ছবি হামেশাই চোখে পড়ে। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা পুরোমাত্রায় থেকেই যায়।
এই ব্যাপারে সোমবার পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত ‘বর্তমান’কে বলেছেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছি। শিয়ালদহ মেন শাখায় সবক’টি লোকাল ট্রেনের কোচ সংখ্যা ন’টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় আগে থেকেই ১২ বগির লোকাল ট্রেন চলে। ওই শাখায় ট্রেনের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ট্রেন যদি থাকে, তাহলে অযথা দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই। রেলমন্ত্রকের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর (ইনফর্মেশন অ্যান্ড পাবলিসিটি) দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, পাদানিতে ঝুলতে ঝুলতে ট্রেনে যাতায়াত করা একেবারেই কাম্য নয়। সেই কারণেই এহেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তা আটকাতে পর্যায়ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় খোলা বন্ধের সুবিধে থাকা দরজা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে দুর্ঘটনার পরেই চেন্নাইয়ের আইসিএফ কর্তৃপক্ষ এবং বোর্ড আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুধুমাত্র এসি লোকাল ট্রেনই নয়। ভেন্টিলেশনের বিশেষ বন্দোবস্ত করে মুম্বইয়ের নন-এসি লোকাল ট্রেনেও ‘অটোমেটিক ডোর ক্লোজিং’ ব্যবস্থা চালু হবে। এক কোচ থেকে অন্য কামরায় যেতে পারার ব্যবস্থাও নতুন লোকাল ট্রেনগুলিতে থাকবে। রেল জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই নয়া ডিজাইনের প্রথম ট্রেন আগামী নভেম্বরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। তার দু’মাসের মধ্যেই মুম্বইয়ে যাত্রী পরিষেবা শুরু হবে। বাংলা এখনও অন্ধকারেই!