সিমলা, ২০ জুলাই: বন্যায় ভাসছে ভূসর্গ। মৃত্যু হয়েছে একাধিক মানুষের। কিছু এলাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্থানীয়দের। এই আবহেই জম্মু ও কাশ্মীরের পর প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে হিমাচল প্রদেশ প্রশাসন। আবহাওয়া দপ্তর হিমাচলের একাধিক জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন। জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আজ এবং আগামী দিন কাংড়া জেলায় সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কাংড়ার জেলা শাসক তথা ডেপুটি কমিশনার হেম রাজ বৈরওয়া জানিয়েছেন, জেলার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু'দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। হিমাচল প্রদেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বল্যাহারের সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ও এই দু'দিন বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সব পরীক্ষাও স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদেরও ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, কিন্নর জেলায় হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল জলস্রোতের কারণে সাংলা-চিতকুল রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তিব্বত সীমান্তের কাছে সেনা ও ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের পোস্টগুলির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিতকুল হয়ে তিব্বত সীমান্ত এলাকার সঙ্গে উত্তরাখণ্ডকে যুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় খুব ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এর আগে রাজ্যের মুখ্যসচিব কমলেশ কুমার পন্থ সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা জরুরি অপারেশন কেন্দ্রগুলি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে, ভূমিধস, হড়পা বান ও মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে এবং আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন কুইক রেসপন্স টিম, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, হোমগার্ড, দমকল, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদী, নালা, ঝরনা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকতে এবং জলমগ্ন রাস্তা বা উপচে পড়া সেতু পার হওয়ার চেষ্টা না করতে বলা হয়েছে।
চালু করে হয়েছে রাজ্য জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০ এবং জেলা জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ১০৭৭। যে কোনো প্রতিকুল পরিস্থিতিতে এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।