নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডিজিটাল অ্যারেস্ট ইস্যুতে বৃহস্পতিবার সরকারকে চেপে ধরল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের বিষয় ছিল, সাইবার ক্রাইম-জটিলতা, সুরক্ষা এবং সমাধান। বিজেপির রাজ্যসভার রাধামোহন দাস আগরওয়ালের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রসঙ্গ তুলে সরব হন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচার করেন। কিন্তু যে হারে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বাড়ছে, তা রোখার ক্ষেত্রে কেন ব্যর্থ সরকার? কেনই বা ব্যাপক হারে সচেতনতার প্রচার হয় না? ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কোটি কোটি টাকা বেহাত হচ্ছে।
যদিও সরকার জানিয়েছে, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৮১ হাজার সিম কার্ড ব্লক করা হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ৯৬২ স্কাইপে আইডি এবং ৮৩ হাজার ৬৬৮ টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে। যেগুলি থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের জালিয়াতি চলছিল। ১৩ লক্ষ ৩৬ হাজার অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা হাতছাড়া হওয়া আটকানো গেছে।
বৈঠকে এদিন কর্পোরেট বিষয়ক, রাজস্ব দপ্তরের অধীন ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-ইন্ডিয়া, সিবিআই, এনআইএ’র আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে সাইবার ক্রাইম তথা ডিজিটাল অ্যারেস্ট রুখতে উদ্যোগ বাড়ানো হয়েছে বলেই জানানো হয়েছে। তবুও কমিটির সদস্যদের বক্তব্য তাঁরা নোট করেছেন। পরবর্তী বৈঠকে জবাব দিতে পারেন। আগামী ১০-১১ জুলাই ফের বৈঠক রয়েছে। স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত এই সংসদীয় কমিটিতে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কাকলি ঘোষদস্তিদারও সদস্য। কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তবে এদিন তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না।
সূত্রে খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঁধে দেওয়া লাইন মেনেই মালা রায় একাই এদিন সরকারকে চেপে ধরেন। বলেন, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৪-এ ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ২১ গুন। টাকার অঙ্কে এই প্রতারণা দু’ হাজার কোটি টাকারও বেশি। স্রেফ চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেই ১৭ হাজার ৭১৮টি ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটেছে। এগুলিতে মোট আর্থিক প্রতারণার পরিমাণ ২১০ কোটি টাকার বেশি। তাই কেন স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিসে সেমিনারের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে না যে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনও শাস্তি বাস্তবে নেই। এটা প্রতারকদের একটা ফাঁদ মাত্র। সাইবার ক্রাইম রুখতে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে জাতীয়স্তরে একটি জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করারও দাবি করেছেন তিনি।