Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাটে কেন ফুটছে না তৃণমূলের ঘাসফুল?

তবে দলের আভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, দলের গোষ্ঠী কোন্দলই এর জন্য দায়ী।

রানাঘাটে কেন ফুটছে না তৃণমূলের ঘাসফুল?
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কেন রানাঘাটে ফুটছে না ঘাসফুল? অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণ, সংখ্যালঘু ভোট না থাকা এবং বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণে ধাক্কা খাচ্ছে শাসক দল। কিন্তু প্রশ্ন, হিন্দু অধ্যুষিত বাঁকুড়ায় তাহলে সাফল্য আসছে কোনপথে? বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এমনই একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। তবে দলের আভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, দলের গোষ্ঠী কোন্দলই এর জন্য দায়ী। 

Advertisement

মেরেকেটে আর এক বছর বাকি বিধানসভা ভোটের। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা থেকে ঘাসফুল ফোটানো এখন তৃণমূলের ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হয়ে উঠেছে। মতুয়া ভোট পকেটস্থ করতে বিরোধী শিবির থেকে তারা তুলে এনেছে মুকুটমণির মত নেতাকে। আবার শান্তিপুরের মতো জায়গায় বিজেপির হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডাকে ধাক্কা দিতে উপনির্বাচনে তুলে আনা হয়েছিল অদ্বৈত আচার্যের বর্তমান প্রজন্ম ব্রজকিশোর গোস্বামীকে। উপনির্বাচনে অবশ্য তার ফলও পেয়েছিল শাসক দল। কিন্তু আগামী বছরের বিধানসভা ভোট ফের নতুন অঙ্ক। ভোটার তালিকা নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। এবার রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার ৯টি আসনের অধিকাংশতেই পদ্ম হঠিয়ে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া শাসকদল। খোদ জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বুধবার হরিণঘাটা থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত ছুটে বেরিয়েছেন। করেছেন একাধিক বৈঠক। কী বলছে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা? তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, রানাঘাটের সাংগঠনিক জেলার অধিকাংশ জায়গাতেই তৃণমূল ধাক্কা খাচ্ছে দলেরই একশ্রেণির নেতাদের অন্তর্ঘাতের কারণে। বিধানসভা বা ব্লকস্তরেই নয়, সাধারণ বুথস্তরেও তৈরি হয়েছে ‘দাদা’ অথবা ‘দিদি’-র অনুগামী দল। রানাঘাট ১ ব্লকে যেমন এক প্রাক্তন ব্লক সভাপতি রয়েছেন, তেমনি শান্তিপুরেও রয়েছেন বর্তমান এক কাউন্সিলার। যিনি আবার আগে দল বিরোধী কাজে সাসপেন্ড পর্যন্ত হয়েছেন। রানাঘাট উত্তর-পূর্বের ক্ষেত্রে দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একটি ব্লক বিভক্ত ‘এ’ এবং ‘বি’— দু’ ভাগে। ফলে দলের মধ্যেই উপদল, আবার তার ভিতর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের কারণেই বার বার রক্তক্ষরণ সইতে হচ্ছে তৃণমূলকে। তবে এই সমস্ত সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা গিয়েছে, বুথ থেকে অঞ্চল, অথবা ব্লকস্তরের একাধিক জায়গায় যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। দলকে সঙ্ঘবদ্ধ করে ঘাসফুল প্রতীকের জন্য সমস্ত পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে ঝাঁপাতে পারে এরকম কঠোর নেতার ব্যাপক অভাব। 
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্ব কড়া কথা হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলের আভ্যন্তরীণ বৈঠকে। এবার সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের কাছে হারতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু সেই প্রশ্নের পাল্টা দলের অন্য অংশের প্রশ্ন, তাহলে লোকসভা ভোটে বাঁকুড়া পারল কী করে? তৃণমূল মানে যে জনসাধারণের দল, তা বোঝাতে মাঠে নামতে হবে নেতৃত্বকে। কিন্তু নিচুতলায় উপযুক্ত নেতার অভাব। এলাকাভিত্তিক ‘দাদা’ ‘দিদি’-রা নিজেদের অনুগামী তৈরি করলেও তাদের সেই ক্যারিশমার নেই, যাতে সবাইকে একজোট করতে পারেন। কিছু জায়গায় যে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বুধবার আমি হরিণঘাটা থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত বৈঠক করেছি বিভিন্ন বিষয়ে। দাদা-দিদির দল চলবে না বলে প্রতিটি বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু সংগঠনের কাজে সেই সম্পর্ক যেন বাধা না হয়। কোনও নেতার অনুগামী নয়, ঘাসফুলের অনুগামী হতে হবে। না হলে বসিয়ে দেওয়া হবে। কোথাও কোথাও এই রোগ কাটানোর জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি কোথাও শক্ত হাতে হাল ধরার মতো নেতার অভাব হয়, তাহলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব। আমাদের কাছে উপরতলা থেকে এরকমই নির্দেশ আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ