রায়পুর: লাগাতার অভিযানে মাওবাদীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলার অবুঝমাড়ে এনকাউন্টারে খতম মাওবাদীদের সুপ্রিম কমান্ডার বাসবরাজু। তাঁর মৃত্যুর পর মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওই পদের জন্য উঠে আসছে প্রথম সারির দুই নেতার নাম। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে সোনুর নাম। এছাড়াও বিবেক বা ভূপতি নামেও পরিচিত তিনি। অপরজন হলেন থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবুজি। ঘটনাচক্রে দু’জনেই তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তিরুপতি এখন মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) প্রধান। অপরদিকে মাওবাদীদের সুপ্রিম তাত্ত্বিক নেতা হলেন বেণুগোপাল। পাশাপাশি সংগঠনের আর্থিক দিকটিও সামলান তিনি। দলিত পরিবারে বেড়ে ওঠা তিরুপতির বাড়ি তেলেঙ্গানার জগতিয়ালে। তাঁর বয়স এখন ৬২। অপরদিকে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম বেণুগোপালের বয়স ৭০-এর কাছাকাছি। তিনি নিহত মাওবাদী নেতা মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির ভাই।
গোয়েন্দাদের দাবি, বাসবরাজুর মৃত্যু পর মাওবাদীরা সংগঠন অনেকটাই ছন্নছাড়া। এই সঙ্কটের সময় তারা সশস্ত্র কমান্ডো নাকি কোনও তাত্ত্বিক নেতাকে শীর্ষ পদে বসাবে, এখন সেটাই দেখার। ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানা সীমানায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানে নেমেছে সিআরপিএফ, কোবরা কমান্ডো এবং বস্তার অঞ্চলের চার জেলার পুলিস নিয়ে গঠিত ডিআরজি ফোর্স। অভিযানে মাওবাদীদের অনেক নেতার মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, ছত্তিশগড়ে নতুন করে বাহিনীর অভিযান শুরু হতেই অনেক নেতানেত্রী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হল বেণুগোপালের স্ত্রী তথা দণ্ডকারণ্যের জোনাল কমিটির নেত্রী বিমলা চন্দ ওরফে তারাক্কা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রাহ্মণ নেতা বেণুগোপালের পরিবর্তে মাওবাদীদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মাদিগা সম্প্রদায়ের নেতা তিরুপতি। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় মাওবাদীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন সিআরপিএফের ৭৪ জন জওয়ান। পুলিসের খাতায় ওই হামলার মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছিল তিরুপতির নাম।