আমেদাবাদ: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর চার দিন অতিক্রান্ত। আমেদাবাদের হাসপাতালের বাইরে এখনও দীর্ঘ লাইন। কবে ডিএনএ প্রোফাইলিং শেষে মিলবে দেহ। অপেক্ষা যেন আর শেষ হতেই চাইছে না পরিজনদের। দেহ হাতে না পাওয়ায় ধৈর্য হারাচ্ছেন অনেকেই। দানা বাঁধছে ক্ষোভ। বিমানের কেবিন ক্রু নিহত রোশনি সোনহারের দেহ নিতে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন আত্মীয় পূজা সুখাদ্রে। তিনি জানিয়েছেন, ‘গতকাল ডিএনএ স্যাম্পেল কালেকশন সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে জানানো হয়েছে দেহ শনাক্ত করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’ কেবিন ক্রু মৈথিলি পাতিল থেকে যাত্রী অনিল খিমানি— হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হতে চাইছে না নিহতদের পরিজনদের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আবার ডিএনএ স্যাম্পেল ম্যাচ হওয়ার পরও দেহ মিলতে সময় লাগছে। দুঘর্টনায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ পাটনির পরিবার জানিয়েছে, ‘গতকালই ডিএনএ ম্যাচ হওয়ার খবর হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দেহ হাতে পাইনি।’
সিভিল হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘২৭০টি দেহের মধ্যে ১১৯ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি সহ ৭৬ জনের দেহ পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে কয়েকটি দেহ শনাক্ত হওয়ার পরও তা পরিবারের হাতে তুলে দিতে সময় লাগছে।’ হায়দরাবাদের ফরেন্সিক এক্সপার্ট রাকেশ মিশ্র জানিয়েছেন, ‘ইকনমি ক্লাসের সিটগুলি অত্যন্ত কাছাকাছি হয়। প্রবল তাপ ও বিস্ফোরণের কারণে একাধিক মানুষের দেহ ঝলসে দলা পাকিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ফলে টিস্যু থেকে ডিএনএ সংগ্রহের কাজ চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ।’ কয়েকদিনের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন এই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সিভিল সুপার ডাঃ রাজেশ যোশি জানিয়েছেন, ‘পরিজনদের প্যানিক না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আইন মেনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের কাজ শেষ করতে চাইছি।’
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের দেহাংশ সম্মানের সঙ্গে পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। সেই টিমে রয়েছেন একজন সিনিয়র অফিসার, একজন পুলিশ আধিকারিক ও একজন মনোবিদ।