Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

শীতের ছুটিতে বেড়াতে, মেডিকেল কিট-এ কী কী অবশ্যই রাখবেন

আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। তাই শীতকাল বাদে বছরের যে সময়েই পুকুরে ডুব দিয়ে বেড়াতে যান না কেন, ফের ঘামে স্নান করতেই হয়! তাছাড়া গ্রীষ্মকালে ঘোরাঘুরি মানেই অযথা ত্বকে ট্যান, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া।

শীতের  ছুটিতে  বেড়াতে, মেডিকেল কিট-এ  কী কী অবশ্যই রাখবেন
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

পরামর্শে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশিস মিত্র।

Advertisement

আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। তাই শীতকাল বাদে বছরের যে সময়েই পুকুরে ডুব দিয়ে বেড়াতে যান না কেন, ফের ঘামে স্নান করতেই হয়! তাছাড়া গ্রীষ্মকালে ঘোরাঘুরি মানেই অযথা ত্বকে ট্যান, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া। ওদিকে বর্যা মানেই পেট গন্ডগোল, মশার কামড়! একমাত্র যখের ধন শীতকালই রয়েছে, যে ঋতুতে খেয়ে, ঘুরে, বেড়িয়ে আনন্দ! বিশেষ করে সঙ্গে যদি থাকে গোটা পরিবারের উষ্ণতা! তবে সপরিবারে ভ্রমণে যাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনই সঠিক প্রস্তুতি না থাকলে তা মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে বেড়াতে বেরিয়ে পরিবারের একজন সদস্যের শরীর বিগড়োলে সকলেরই আনন্দ অর্ধেক হয়ে যায়! তাই গাড়িতে সফর হোক বা অন্য কোনও বাহনে, সঙ্গে একটা ফার্স্টএইড বক্স অবশ্যই থাকুক। ফার্স্ট এইড বক্সে পুরুন কতকগুলি ওষুধ।
সাধারণ সমস্যা 
জ্বর, সর্দি, ব্যথা: জ্বর ও গায়ে ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল অবশ্যই রাখুন। কোথাও আঘাত লেগে ব্যথা হলেও খেতে পারেন প্যারাসিটামল।
সর্দি ও অ্যালার্জি: অ্যান্টি-হিস্টামিনিক ওষুধ এক পাতা অবশ্যই রাখবেন।
গলা ব্যথার জন্য: লজেন্স বা মেন্থল ড্রপস। ভিটামিন সি ট্যাবলেটও পাওয়া যায়। সেটাও চুষে খাওয়া যায়।
মোশন সিকনেস (বমি ভাব)
যাদের গাড়িতে বা পাহাড়ে বমি হয়, তারা অ্যান্টি-এমেটিক ওষুধ যেমন প্রোমেথাজিন ২৫ ওষুধ রাখতে পারেন। তবে গাড়িতে বা ট্রেনে ওঠার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে একটি ট্যাবলেট খেয়ে নেওয়া ভালো। 
পেটের সমস্যা (বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য)
ভ্রমণে খাবারের অনিয়ম যেমন বেশি হয়, তেমনই বাইরে বেরিয়ে শাকসব্জিও তেমন খাওয়া হয় না অনেকের। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। তাই সঙ্গে রাখুন—
অ্যান্টাসিড: চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট বা সিরাপ রেখে দিন।
পেট খারাপ: ওরাল স্যালাইন (ওআরএস) এবং ডায়ারিয়া প্রতিরোধের ওষুধ।
কোষ্ঠকাঠিন্য: ইসবগুলের ভুসি রাখতে পারেন। 
কাটাছেঁড়া ও আঘাতের জন্য উপকরণ
পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছেন, কেটে গিয়েছে এমন আকছার ঘটে। এমনকী বাচ্চারও নিজেদের মধ্যে খেলতে গিয়ে মাটিতে পড়েছে, হাত বা পা কেটে গিয়েছে এমনও হয়। সেক্ষেত্রে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
প্রথমে অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করুন। তারপর জীবাণুমুক্ত গজে জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম দিয়ে ক্ষতস্থানের উপর চেপে রাখুন। রোলার ব্যান্ডেজ এবং মাইক্রোপোর টেপ দিয়ে ক্ষতস্থান ভালো করে জড়িয়ে দিন।
অ্যালার্জি ও পোকামাকড়ের কামড়
ক্রিম: ক্যাল্যামাইন লোশন অভশ্যই রাখতে পারেন। জরুরি অবস্থার জন্য সেট্রিজিন জাতীয় ওষুধ রাখুন।
দীর্ঘস্থায়ী অসুখ
অনেকেই ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার, থাইরয়েড, কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভোগেন। নিয়মিত খেতে হয় ওষুধ। যে ওষুধই খান না কেন, অন্তত ১০ দিনের ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
এছাড়া প্রেসক্রিপশনের কপি এবং চিকিৎসকের ফোন নম্বর সঙ্গে রাখুন।
সম্ভব হলে ডায়াবেটিসের রোগী আলাদা করে সঙ্গে রাখুন পোর্টেবল ব্লাড সুগার মাপার যন্ত্র। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মতো পরিস্থিতি এড়াতে চকোলেট ও গ্লুকোজ বিস্কুট সঙ্গে রাখতে পারেন।
ইনহেলার: অ্যাজমার সমস্যায় ভোগা রোগীরা সঙ্গে করে অবশ্যই ইনহেলার নিয়ে যান। কারণ শীতকালে বাতাসে ধুলোবালির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। 
উচ্চতাজনিত অসুস্থতা
পাহাড়ে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যাসিটাজোলামাইড জাতীয় ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন। এছাড়া  বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টের রোগী থাকলে শ্বাসকষ্ট এড়াতে সাথে ছোট পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যান রাখাও নিরাপদ হতে পারে।
শিশুদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি
 বড়দের ওষুধ শিশুদের দেবেন না। শিশুদের জন্য সিরাপ বা ড্রপ আলাদা করে রাখুন।
 থার্মোমিটার, ডায়াপার র‍্যাশ এড়াতে ক্রিম এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় অবশ্যই সঙ্গে রাখুন।
আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক।

লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ