সংবাদদাতা রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলায় শিবের গাজনের মধ্য দিয়েই হয় বর্ষবরণ। চড়কের পর শিবের পুজোয় জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। বৈশাখজুড়েই চলে শিবের পরব। গাজনের মেলায় ঢাকের তালে ভক্তাদের কৃচ্ছসাধন দেখতে প্রচুর ভিড় জমে। মেলার ময়দানে বসে যাত্রা, ছৌ, ঝুমুর নাচের আসর।
পুরুলিয়ার বিখ্যাত শৈবক্ষেত্রগুলি হল বুধপুরের বুদ্ধেশ্বর, চিড়কার গৌরীনাথ, আনাড়ার বাণেশ্বর ও তেলকূপীর গদাধর। যার মধ্যে বর্তমানে তেলকূপী পাঞ্চেত জলাধারের নীচে চলে গিয়েছে। তাছাড়া উৎসব জমে লহরিয়া, ক্রোশজুড়ি, কড়িয়ার শিবমন্দিরে। এছাড়া গ্রামে গ্রামে তো শিবমন্দির আছেই। আনাড়ায় গাজন উপলক্ষ্যে সাতদিনের মেলা বসে।
জেলার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মানভূমে পয়লা মাঘ আখান যাত্রার দিনটি যেভাবে পালিত হয়, পয়লা বৈশাখ সেইভাবে হয় না। তবে সেই দিন শিবপূজা হয়। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন মানুষ শিবমন্দিরে নীলের উদ্দেশে বাতি দেন। এই বাতি প্রদীপ বা মোমবাতি নয়। ভেরেন্ডা গাছের কাঁচা ডাল জ্বালিয়ে দিলেই তা প্রদীপের মতো জ্বলতে থাকে।
নীলের বাতি দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ রাখার কামনা করা হয়। এখনও মানভূমের বহু গ্ৰামে চড়ক ঘোরানোর প্রথা আছে। এক কবি লিখেছেন, জিভ কাটে, জিভ ফোঁড়ে, করয়ে চড়ক, মনমতো বর পায় না যায় নরক। বিশেষত যেখানে শিবের বাণলিঙ্গ রয়েছে, সেখানে চড়কে ভক্তারা শিবকে ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকারে নৃত্য করেন। এটি গাজনের নৃত্য।
পুরুলিয়ার শহরাঞ্চলে নববর্ষে এখনও কিছু দোকানে বাংলা ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। কিন্তু গ্ৰামীণ মানভূমে শিবকে ঘিরেই নববর্ষ পালন হয়। এমন গ্ৰাম আছে, যেখানে গোটা বৈশাখ মাস শিবপূজা চলে। চৈত্র গাজনের মাধ্যমেই এখানে শুরু হয় ছৌ-নাচের মরশুম।
এছাড়া এইসময় মানভূমে আরও একটি উৎসব পালিত হয়। সেটি হল ছাতু বাড়া। চৈত্র সংক্রান্তির দিন পূর্ব-পুরুষদের উদ্দেশে যব বা ছোলার ছাতু নিবেদন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা নতুন বছরের জন্য তাঁদের আশীর্বাদ চান। প্রচণ্ড গরমেও শিবমন্দিরে ভিড় জমে যায়। রাত যত বাড়ে, তত বাড়ে উৎসাহ।