Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমরা শান্তি চাই, বলছেন শাল বিক্রেতা কাশ্মীরি জামাইরা

রবি ঠাকুরের সেই কাবুলিওয়ালাকে মনে পড়ে? যাঁর মধ্যে ছিল পিতৃত্ব বোধ। এখানকার মানুষের প্রতি অগাধ ভালবাসা।

আমরা শান্তি চাই, বলছেন শাল বিক্রেতা কাশ্মীরি জামাইরা
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রবি ঠাকুরের সেই কাবুলিওয়ালাকে মনে পড়ে? যাঁর মধ্যে ছিল পিতৃত্ব বোধ। এখানকার মানুষের প্রতি অগাধ ভালবাসা। সেই কাবুলিওয়ালার মতোই আজও বাংলায় আসেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। তাঁরা বাংলার বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে ঘুরে শাল বিক্রি করেন। কাশ্মীরের নানা পণ্যও তাঁদের কাছে থাকে। বাংলার প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে এখানকার মাটিকে তাঁরা ভালবেসে ফেলেন। আপন করে নেন স্থানীয়দের। অনেকে আবার বাংলাতে ঘর বাঁধেন। যেমন সেলিম শেখ ৩১ বছর ধরে বর্ধমানে রয়েছেন। এখানে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। প্রতিবছর মে মাসে কাশ্মীর চলে যান। আবার শীতের শুরুতে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীদের শেষ করে দেওয়া দরকার। ওদের জন্য কাশ্মীরের মানুষের খুব ক্ষতি হচ্ছে। পর্যটক ছাড়া কাশ্মীরের বাসিন্দাদের চলবে না। সেখানকার কেউ চায় না জঙ্গি হামলা হোক। পহেলগাঁও ঘটনার নিন্দার ভাষা নেই। আমরা শান্তি চাই।   

Advertisement

সামিম শেখ নামে বর্ধমানের আর এক জামাই বলছেন, পর্যটকরা আমাদের কাছে মেহেমান। জীবন দিয়ে ওঁদের রক্ষা করব। যারা এভাবে হত্যালীলা চালিয়েছে তারা কাপুরুষ ছাড়া আর কিছু নয়। কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা অশান্তি চান না।
বর্ধমানের গোদার আরও এক জামাই তথা জম্মুর বাসিন্দা শাল ব্যবসায়ী বলেন, জঙ্গিদের চরম শাস্তি হওয়া দরকার। বাংলার মানুষের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকেই পহেলগাঁওয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আমার পরিচিত ছিল। তাঁদের বলেছিলাম অসুবিধা হলে আমার বাড়ি চলে আসতে। নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করতাম। প্রতি বছর শীতে বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায় শালের ব্যবসা করে আমাদের আয় হয়। বাংলার মানুষ যেন আমাদের ভুল না বোঝে।কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিলেন পাভেল সাহা। তিনি বলেন, আমরা শ্রীনগরে ছিলাম। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আতিথেয়তা অন্য রকম। কাশ্মীরের এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানে থাকেন। সমস্যায় পড়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দুর্গাপুরের ট্যুর এজেন্সির এক কর্ণধার বলেন, আমরা সেখানকার দুই স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে পর্যটকদের নিয়ে ছিলাম। শ্রীনগরের কয়েকজন ব্যবসা সূত্রে এরাজ্যে আসতো। সেই সূত্র ধরেই তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়।কাশ্মীর থেকে ব্যবসা করতে এসে এরাজ্যকে ভালোবেসে থেকে যাওয়া ‘জামাইরা’ বলছেন, জঙ্গিরা যতই চেষ্টা করুক বাঁধন কাটতে পারবে না। আগামী দিনেও কোনও পর্যটকের উপর হামলা হলে কাশ্মীরের যুবকরা রুখে দাঁড়াবে। প্রয়োজনে প্রাণ দেবেন। এবারও জঙ্গিদের কাছে থেকে বন্দুক কাড়তে গিয়ে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ