Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ক্লাবে রেখে দিই না টাকাটা, সরকারি নির্দেশ মেনে দুর্গাপুজোতেই খরচ হয়’, অনুদান বিতর্কে বার্তা উদ্যোক্তাদের

বাঙালির প্রাণের দুর্গোৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষ। শারদোৎসব সরাসরি তৈরি করে কর্মসংস্থান এবং উপার্জনের সুযোগ।

‘ক্লাবে রেখে দিই না টাকাটা, সরকারি নির্দেশ মেনে দুর্গাপুজোতেই খরচ হয়’, অনুদান বিতর্কে বার্তা উদ্যোক্তাদের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বাঙালির প্রাণের দুর্গোৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষ। শারদোৎসব সরাসরি তৈরি করে কর্মসংস্থান এবং উপার্জনের সুযোগ। এক কথায়, এটি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিসর। এই সূত্র ধরেই বাঙালির দুর্গাপুজো পেয়েছে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। তাই এই উৎসবের আরও শ্রীবৃদ্ধির জন্য রাজ্য সরকারের অর্থসাহায্য প্রদান সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী বলে মনে করে পুজো কমিটিগুলি। তারা জানিয়েছে, রাজ্য সরকার যে অনুদান দেয়, তা কীভাবে খরচ করতে হবে, তার একটি নির্দেশিকাও পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এই টাকা কীভাবে খরচ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তার হিসেব পুজো কমিটিগুলিকে জমাও দিতে হয়। এই যুক্তি দেখিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, যাঁরা অনুদানের বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করছেন, তাঁরা ঠিক করছেন না।

Advertisement

এবারে প্রত্যেক দুর্গাপুজো কমিটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনুদান যে ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজো কমিটিগুলির কাছে বড় রকমের সাহায্য, তা একবাক্যে স্বীকার করেছেন পুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা মানুষজন। বিশেষকরে শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে এই অনুদান পুজো কমিটিগুলিকে বিশেষ সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বাঙালির দুর্গাপুজো আজ বিশ্ব দরবারে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই উৎসবে অংশ নিতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার মানুষ বাংলায় আসে। তাই উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুজো কমিটিগুলিকে রাজ্য সরকার যে আর্থিক সহযোগিতা করে, তা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। সমালোচকা মনে রাখবেন, ওই টাকা ক্লাব ঘরে রেখে দেওয়া হয় না। অন্য কোনও কাজেও নয়, একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকার ভিত্তিতে দুর্গাপুজোতেই খরচ করা হয়। কলকাতার শিবমন্দির পুজো কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা পার্থ ঘোষ বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা, প্রবীণ-মহিলাদের বাড়তি সুরক্ষা প্রদান, মণ্ডপ চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পুলিসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন সহ একাধিক বিষয় উল্লেখ করা থাকে সরকারি ওই নির্দেশিকায়। সেইমতোই টাকা খরচ করা হয়।
টালা প্রত্যয় পুজো কমিটির ধ্রুবজ্যোতি বসুর কথায়, দুর্গোৎসব প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ শিল্প পরিসর। এটা রাজ্যের জিডিপির ৪-৫ শতাংশ। ফলে এই উৎসবকে আরও সুন্দর করতে রাজ্য সরকার যে পুজো কমিটিগুলির পাশে থাকছে, অর্থ সাহায্য করছে, সেটা অবশ্যই অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ।

সম্পর্কিত সংবাদ