Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

সিগারেটের মতো সতর্কীকরণ জিলিপি-শিঙাড়াতেও!

বর্ষার সন্ধেয় চপ বা শিঙাড়া ছাড়া সন্ধেটা যেন ঠিকমতো জমে না! আর রথের মেলায় জিলিপি না খেলে তো মজাটাই নষ্ট। আর শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, এক কাপ চা ছাড়া তো বাঙালি অচল। সঙ্গী বিস্কুট।

সিগারেটের মতো সতর্কীকরণ জিলিপি-শিঙাড়াতেও!
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ১৪:০৭
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বর্ষার সন্ধেয় চপ বা শিঙাড়া ছাড়া সন্ধেটা যেন ঠিকমতো জমে না! আর রথের মেলায় জিলিপি না খেলে তো মজাটাই নষ্ট। আর শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, এক কাপ চা ছাড়া তো বাঙালি অচল। সঙ্গী বিস্কুট। কিন্তু এই সব খাবার নাকি সিগারেটের মতোই ক্ষতিকারক! তাই তামাকজাত দ্রব্যের ধাঁচে এবার সতর্কবার্তা জারি হচ্ছে জিলিপি-শিঙাড়ার উপরেও। সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। রীতিমতো নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে, এবার থেকে নাগপুর এইমস সহ কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত সংস্থাতেই নিত্যদিনের ‘স্ন্যাক্স’জাতীয় খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা সম্বলিত বোর্ড ঝোলাতে হবে। তাতে স্পষ্ট লেখা থাকবে, কোন খাবারে ঠিক কতটা চিনি বা তেল রয়েছে। শিঙাড়া, জিলিপি, বড়া পাও, লাড্ডু, কোল্ড ড্রিঙ্ক, জ্যাম-জুসের মতো সব খাবারই থাকবে এই তালিকায়। সিগারেট ও অন্য তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকির কথা স্পষ্ট করে লেখার নিয়ম রয়েছে বহুদিন ধরেই। এবার কার্যত একই তালিকায় চলে এল শিঙাড়া, জিলিপিও। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে না।

Advertisement

মন্ত্রক সূত্রে খবর, রোজকার খাবারের ক্ষতিকর দিক সামনে আনতেই এই পদক্ষেপ। উজ্জ্বল হলুদ-নীল রঙা বোর্ডগুলি এমন জায়গায় লাগানো হবে, যেখানে সাধারণত এই ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বোর্ডে প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের নাম ও ছবি সহ কোনটিতে ঠিক কত চামচ তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি (ফ্যাট) ও চিনি, সব লেখা থাকবে। সেগুলি প্রত্যেককে সচেতন করবে এগুলির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি জনসাধারণের ঝোঁক বাড়বে বলে মনে করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। নাগপুর এইমস দিয়ে প্রথমে শুরু হচ্ছে এই প্রচার। 
জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকজাত দ্রব্যের মতোই এই মুহূর্তে অত্যধিক তেল ও চিনিযুক্ত খাবার অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসবের জেরে একদিকে যেমন মধুমেহ (ডায়াবেটিস) বাড়ছে, তেমনই দেখা দিচ্ছে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাও। নিঃশব্দে লাগামছাড়া হচ্ছে স্থূলত্ব (ওবেসিটি)। এই মুহূর্তে পৃথিবীর মধুমেহ রাজধানী ভারত। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, ভারতের ৭ কোটি ৭০ লক্ষ লোক টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আরও আড়াই কোটি লোক প্রি-ডায়াবেটিক অর্থাৎ মধুমেহ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বাবস্থায় রয়েছেন। দেশের ৫০ শতাংশ লোক জানেনই না তাঁর রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক কতটা। পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিক্যাল জার্নালের রিপোর্ট বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ ওবেসিটির শিকার হবে। স্থূলতার মাপকাঠিতে আমাদের সামনে থাকবে শুধুমাত্র আমেরিকা। এই মুহূর্তে ভারতে প্রতি পাঁচজন নাগরিকের একজন মাত্রাতিরিক্ত ওজনের কারণে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ২০৫০ সালে সংখ্যাটা দাঁড়াবে প্রতি তিনজনে একজন। ওজন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যাভ্যাস। বেড়ে চলা হৃদরোগের প্রবণতাও আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তথ্য বলছে, প্রতিবছর হৃদরোগে (সাডেন কার্ডিয়াক অ্যাটাক) আক্রান্ত হয় দেশের অন্তত ৭ লক্ষ মানুষ। এরও অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস।
মধুমেহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুনীল গুপ্তা বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানতে পারেন, একটি গুলাব জামুনে পাঁচ চামচ চিনি রয়েছে। তবে তারা তা খাবার আগে দু’বার ভাববে।’ কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ দিচ্ছেন কার্ডিলোজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার (নাগপুর শাখা) সভাপতি অমল আমালে। তাঁর মতে, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট এই মুহূর্তে তামাকের সমান ক্ষতিকর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ