Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬

‘যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি’, ইরান থেকে ফিরে বললেন ভারতীয়রা

রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ভাঙা কাচ। দু’পা হাঁটলেই চোখে পড়বে মৃতদেহ। কোথাও টায়ার জ্বলছে, কোথাও পুড়ছে দোকান। গুলির শব্দ ঘনঘন কানে আসছে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সরকার বিরোধী স্লোগান।

‘যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি’, ইরান থেকে ফিরে বললেন ভারতীয়রা
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ভাঙা কাচ। দু’পা হাঁটলেই চোখে পড়বে মৃতদেহ। কোথাও টায়ার জ্বলছে, কোথাও পুড়ছে দোকান। গুলির শব্দ ঘনঘন কানে আসছে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সরকার বিরোধী স্লোগান। বাইরে বেরনোর উপায় নেই। ইন্টারনেট বন্ধ। বিগত বেশ কিছুদিন কার্যত ঘরবন্দি হয়েই দিন কাটাতে হয়েছে ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের। অবশেষে মিলেছে স্বস্তি। শুক্রবার ভোরে তাঁদের অনেকেই দিল্লি ফিরেছেন। তবে তাঁদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

Advertisement

দুটি বাণিজ্যিক বিমানে ফিরেছেন ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের একাংশ। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ ও অনিশ্চিত’ বলেই বর্ণনা করেছেন তাঁরা। অনেকেই জানান, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এতটাই হিংসাত্মক ছিল যে, প্রাণে বেঁচে ফেরার আশাটুকুও ছিল না। ইরানে যুদ্ধ না হলেও পরিস্থিতি প্রায় তেমনই অগ্নিগর্ভ।  এক ভারতীয় পড়ুয়ার কথায়, ‘আগেও ইরানে বিক্ষোভ দেখেছি। তবে এমন বীভৎস চেহারা দেখেনি।’ জম্মু ও কাশ্মীরের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘বিক্ষোভ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। ভারত সরকার আমাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় খামতি রাখেনি।’ কর্মসূত্রে ইরানে গিয়েছিলেন এক ইঞ্জিনিয়ার। দেশে ফিরে তিনি বলেছেন,  ‘তেহরানের পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ভীষণ সমস্যা হচ্ছিল।’

দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর অধিকাংশ যাত্রীই ভারত সরকার ও ভারতীয় দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যদিও এই বিমানগুলি কোনও বিশেষ উদ্ধার অভিযানের অংশ ছিল না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির ওপর সবসময় নজর রাখা হচ্ছে। অন্তত ৯ হাজার ভারতীয় এখনও ইরানে আটকে। ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন অনেকে। বাকিদেরও খুব শীঘ্রই ফেরানো হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে খামেনেই প্রশাসন বিরোধী  বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। সরকার সেই আন্দোলন রুখতে কড়া দমননীতি গ্রহণ করায় পরিস্থিতি জটিল হয়। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান কয়েক হাজার আন্দোলনকারী। গ্রেপ্তারও হন বহু। এই আবহে খামেনেই প্রশাসনকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি ইরান-আমেরিকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ