Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এসআইআর পর্বে বাংলায় ভোটার হয়রানি, কমিশনকে সুপ্রিম ধাক্কা

সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছিল, এসআইআর সংক্রান্ত কোনও অনিয়ম দেখলে গোটা প্রক্রিয়া তারা খারিজ করে দেবে। মাথার উপর ঝুলতে থাকা সেই খাঁড়ার উদ্বেগ কাটার তো প্রশ্নই নেই, উলটে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন ইস্যুতে তৃণমূলের আবেদনে ফের ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন।

এসআইআর পর্বে বাংলায় ভোটার হয়রানি, কমিশনকে সুপ্রিম ধাক্কা
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছিল, এসআইআর সংক্রান্ত কোনও অনিয়ম দেখলে গোটা প্রক্রিয়া তারা খারিজ করে দেবে। মাথার উপর ঝুলতে থাকা সেই খাঁড়ার উদ্বেগ কাটার তো প্রশ্নই নেই, উলটে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন ইস্যুতে তৃণমূলের আবেদনে ফের ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মামলার শুনানি শুরু হতেই কমিশনের আইনজীবী তড়িঘড়ি আর্জি জানান, ‘আমাদের দু’সপ্তাহ সময় দিন। বক্তব্য জমা দেব।’ যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, দু’ সপ্তাহ নয়। আগামী সপ্তাহেই জবাব চাই। সেইমতো ১৯ জানুয়ারি ফের শুনানির তারিখ স্থির হয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনকে দ্রুত তৃণমূলের সওয়ালের জবাব দিতে হবে। জানাতে হবে, কেন এসআইআরের নামে অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলার আম জনতাকে।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একের পর এক চিঠিতে চাপে রাখছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি সুরাহা চাইছেন। তাঁদের হয়ে সওয়াল করছেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কপিল সিবাল। কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল মামলা করেছিল গত ৩০ জুলাই। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে সেই মামলার চারবার শুনানি হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। তারপরই ডেরেক গত ৬ জানুয়ারি সাপ্লিমেন্টারি পিটিশন দাখিল করেন। বাংলায় এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাম, ঠিকানায় বানানে ভুলের মতো সামান্য কিছু ত্রুটির জন্য লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষকে কমিশন হেনস্তা করছে বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। ভুল শোধরানোর সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি যতদিন না বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় উঠছে, সেই পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। এসআইআর পর্বে নির্বাচন কমিশন যেসব প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটাও চ্যালেঞ্জ করেছেন ডেরেক। তৃণমূলের এই এমপির কটাক্ষ, ‘এ তো হোয়াটঅ্যাপ কমিশন!’ 
তার রেশও মিলেছে এদিন। শুনানিতে তৃণমূল সাংসদদের মূল মামলা সহ অতিরিক্ত আবেদনের শুনানিও শুরু হয়। ‘কপিল সিবালের সওয়াল, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বাংলায় এক কোটির বেশি নাগরিককে ডেকে পাঠিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে বিএলওদের মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। তার ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ লিখিত আদেশ ছাড়াই কাজ করছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার কোনও অডিট ট্রেইল থাকছে না। যা নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।’ সিবালের সওয়াল আরও এগনোর আগেই কমিশনের আ‌ইনজীবী তড়িঘড়ি বলেন, ‘দু’সপ্তাহ সময় দিন। সব উত্তর দেব।’ যদিও বিচারপতি সূর্য কান্তর নির্দেশ, দু’সপ্তাহ নয়। আগামী সপ্তাহেই শুনব। দুই মামলারই একসঙ্গে জবাব দেবেন তাঁরা। সেটাই মেনে নিয়েছেন কমিশনের আইনজীবী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও বাংলার এসআইআর মামলায় জবাব দেওয়ার সময় চেয়েছিল কমিশন। এদিন আরও একবার। ফলে বাংলার শাসক দলের দুই সাংসদের মামলায় কমিশন যে কতটা চাপে, তা সহজেই অনুমেয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ