বেঙ্গালুরু: বয়স শুধুই সংখ্যা! আইপিএল মঞ্চে তা আবারও প্রমাণ করলেন বিরাট কোহলি। পঁচিশের কোটিপতি লিগে দুরন্ত ফর্মে তিনি। কমলা টুপি দখলের লড়াইয়ে রয়েছেন দারুণভাবে। নিঃশ্বাস ফেলছেন সাই সুদর্শনের ঘাড়ে (৪১৭)। এখনও পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ৩৯২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে কোহলি। যার মধ্যে ৭০ যোগ হল বৃহস্পতিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। তাঁর গড়ে দেওয়া ভিত কাজে লাগিয়ে চলতি আসরে প্রথমবার ঘরের মাঠে জয়ের মুখ দেখল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরিতে বিরাটকে সঙ্গ দেন দেবদূত পাদিক্কাল। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে আরসিবি ৫ উইকেটে তোলে ২০৫। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানে আটকে যায় রাজস্থান। ১১ রানে জিতে টেবিলে আপাতত তৃতীয় স্থানে বিরাটরা। ৯ ম্যাচে তাঁদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।
কিং কোহলির ব্যাটিং দেখার টানে এদিনও চিন্নাস্বামীর গ্যালারিতে উপচে পড়েছিল ভিড়। সমর্থকদের হতাশ করেননি ভিকে। পাওয়ার প্লে’তে ফিল সল্টের সঙ্গে দ্রুত রান তোলেন তিনি। একটা সময় আরসিবি’র স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৬১। তখনই বোঝা গিয়েছিল, স্কোর দুশোর উপর পৌঁছে যাবে। সল্ট ২৬ রানে আউট হলেও ধাক্কা টের পেতে দেননি পাদিক্কাল। বরং দেবদূতের মতো তাঁর আবির্ভাব আরসিবি’র রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। আসলে পাঞ্জাবের বোলিং যতটা দুর্বল, ফিল্ডিংও একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয়। সেই সুযোগ কাজে লাগান বেঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা। গোটা তিনেক ক্যাচ পড়ে আরসিবি’র ইনিংসে। তার মধ্যে দেবদূত পাদিক্কাল ২৮ রানে জীবন পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। কোহলি ৪২ বলে ৭০ রানে আউট হন আর্চারের বলে। আটটি বাউন্ডারির পাশাপাশি দু’টি ওভার বাউন্ডারিও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। টিম ডেভিড ২৩ ও জীতেশ শর্মা ১০ বলে অপরাজিত ২০ রানের ইনিংস খেলেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান রাজস্থান রয়্যালসের বাঁ হাতি ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। চোটের কারণে সঞ্জু স্যামসন না খেলায় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। পাওয়ার প্লে’তে দ্রুত গতিতে রান তুলে চাপ কমানোই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। কিন্তু বৈভব (১৬) ও যশস্বী (৪৯) পর পর আউট হওয়ায় পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। হতাশ করেন অধিনায়ক রিয়ান পরাগও (২২)। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান নীতিশ রানা (২৮) এবং ধ্রুব জুরেল (৪৭)। একটা সময় ১২ বলে ১৮ রান দরকার ছিল রাজস্থানের। কিন্তু ১৯তম ওভারে জস হ্যাজলউডের অনবদ্য বোলিংয়ে শেষ হয়ে যায় তাদের জয়ের স্বপ্ন। মাত্র এক রান খরচ করে দু’টি শিকার ঝুলিতে ভরেন তিনি। যার মধ্যে জুরেলের মূল্যবান উইকেটও রয়েছে। শেষ ওভারে শুভম দুবে, হাসারাঙ্গাদের আটকাতে কোনও সমস্যা হয়নি জশ দয়ালের। আরসিবি’র হয়ে একাই চারটি উইকেট নেন হ্যাজলউড। রীতিমতো স্বপ্নের ফর্মে অজি পেসার। ৯ ম্যাচে ১৬টি উইকেট নিয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার সঙ্গে যৌথভাবে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।