Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা পরিষদের রাস্তা সংস্কারের কাজ আটকে দিলেন গ্রামবাসীরা

জেলা পরিষদের রাস্তার কাজ ফের আটকে দিলেন গ্রামবাসীরা‌।

জেলা পরিষদের রাস্তা সংস্কারের কাজ আটকে দিলেন গ্রামবাসীরা
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেলা পরিষদের রাস্তার কাজ ফের আটকে দিলেন গ্রামবাসীরা‌। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে চাপড়া থানার অন্তর্গত হাটখোলা পঞ্চায়েতের রানাবন্ধ এলাকায়।‌ অভিযোগ, রাস্তার কাজের গুণগত মান খারাপ। এলাকার তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য সেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এলাকার প্রাক্তন জেলা পরিষদের সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার কাজের নিদান দিয়েছেন। এমনকী স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এবং সদস্যদের ‘অন্ধকারে’ রেখেই কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর আপত্তিতে এদিন দীর্ঘক্ষণ সেই এলাকায় কাজ বন্ধ থাকে। যদিও পরবর্তীতে বেলার দিকে মানোন্নয়নের শর্তে কাজ ফের চালু হয়। তবে একের পর এক জেলা পরিষদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, হাটখোলা পঞ্চায়েত সংলগ্ন রানাবন্ধ এলাকায় ৬৬ লক্ষ টাকা খরচ করে দু’কিলোমিটার রাস্তা করা হচ্ছে জেলা পরিষদের তরফ থেকে। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি রাস্তার ওই এলাকার কাজ প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্যের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে। তাই নিয়ে আপত্তি দলের একাংশের। এই ঘটনায় সোমবার সকালে ওই এলাকার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এনিয়ে চাপড়ার এই ঘটনায় এলাকার তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য তমিজউদ্দিন শেখ বলেন, ‘হাটখোলাতে জেলা পরিষদের কাজ হচ্ছে। কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি। সকালে এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে সেখানে যাই। গিয়ে জানতে পারি, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য যেভাবে কাজ করতে বলেছেন, সেইভাবেই নাকি কাজ হবে। গ্রামের লোকজন তা মানতে নারাজ। কাজের গুণগত মানে খামতি রয়েছে। বন্ধ হওয়া কাজ আমি চালু করে আসি। কিন্তু তা সরকারি কাজের বিধি মেনে করতে হবে।’
চাপড়ার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এজেন্সি স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য এবং পঞ্চায়েত প্রধানকে অন্ধকারে রেখে কাজ করেছে। সেই জায়গায় একজন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্যকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এমনটা কীভাবে হচ্ছে, তা আমরা দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে জানতে চাই।’
ওই এলাকার প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য সমর ঘোষ বলেন, ‘মোট পাঁচটি কাজের মধ্যে একটা কাজ আমার ভাগে পড়ে। রানাবন্ধের ওই রাস্তার কাজ প্রায় শেষের দিকে। এলাকার লোকজনও খুশি। জেলা পরিষদের কাজের মানও ভালো। রাজনীতি করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার জেলার বিভিন্ন জেলা পরিষদের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই চাপড়া ব্লকের বৃত্তিহুদা পঞ্চায়েতের গোখুরাপোতা এলাকাতেও জেলা পরিষদের রাস্তার কাজ নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। কালীগঞ্জে খোদ জেলা পরিষদ সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের নির্বাচনী কেন্দ্র পলাশিতেও রাস্তার কাজের মান খারাপ বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দিন কয়েক আগে করিমপুরের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেচুয়াডাঙা এলাকাতে জেলা পরিষদের রাস্তার কাজের গুণগত মান খারাপের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামের লোকজন। পরে গ্রামবাসীদের চাপে সেই রাস্তা সংস্কার করা হয় প্রশাসনের তরফ থেকে।  নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘কাজের গুণগত মান নিয়ে কোনওভাবেই আপোস করা হবে না। অভিযোগ পেয়ে আমাদের ইঞ্জিনিয়াররাও ফিল্ডে গিয়ে কাজ দেখছেন।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ