গোরক্ষপুর: জাতীয় গীত নিয়ে বিতর্ক চলছেই। তার মধ্যেই নয়া ঘোষণা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের— রাজ্যের সমস্ত স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবার ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ‘ভারত মাতা’ ও দেশের প্রতি আম জনতার ভাবাবেগ জাগিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ। সোমবার গোরক্ষপুরে ‘একতা যাত্রা’ অনুষ্ঠানে যোগী বলেন, ‘দেশের জাতীয় গান বন্দেমাতরমের প্রতি একটা সম্মান থাকা উচিত। আমরা উত্তরপ্রদেশের সব স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করব।’ এদিনই পালটা ‘বন্দেমাতরম’ ইস্যুতে বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরকন্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘বন্দেমাতরম’ এবং ‘জনগণমন অধিনায়ক’-এর নামে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল ‘বন্দেমাতরম’ এবং ‘জনগণমন’কে সম্মান করে। তৃণমূলের থেকে সেই সম্মানের পাঠ নিতে বিজেপিকে পরামর্শও দেন মমতা।
গত শুক্রবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দেমাতরমে’র ১৫০ বছর পূর্তিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রক স্ট্যাম্প এবং কয়েন প্রকাশ করে তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমালোচনাতেও সরব হন। বলেন, ১৯৩৭ সালে ‘বন্দেমাতরম’ গানটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই দেশভাগের বীজ বপন হয়। কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজেপির তরফে আরও বলা হয়, জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ‘সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের জন্য সে বছর গানটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। পাল্টা জবাব দেয় কংগ্রেসও। হাত শিবিরের তরফে বলা হয়, এহেন মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে মোদি ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও অপমান করেছেন। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রস্তাব মেনেই গানের প্রথম দু’টি স্তবক গ্রহণ করা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, বিজেপি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করার কথা ভুলে গিয়েছে বলেও তোপ দাগেন। আর এই তরজার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের স্কুলগুলিতে বন্দেমাতরম গীত বাধ্যতামূলক করল যোগী সরকার।