নিউ ইয়র্ক: শুল্কনীতির জেরে ভারত সহ একাধিক দেশের সঙ্গে সংঘাত জারি রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বিদেশি পড়ুয়া ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ কমানো।সূত্রের খবর, শীঘ্রই এব্যাপারে পদক্ষেপ করতে চলেছে হোয়াইট হাউস। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত আইন ফের চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে আইনটি চালু হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করে নেয় তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন।
১৯৭৮ সালের নিয়ম বলছে, গবেষণা ও পড়াশোনার কাজে যুক্ত থাকলে মার্কিন মুলুকে যতদিন খুশি বসবাস করা যাবে। তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো সেই সুযোগ আর মিলবে না।সম্প্রতি এবিষয়ে ফের বিবৃতি প্রকাশ করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সেখানে লেখা হয়েছে, বিদেশি পড়ুয়ারা আর আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য আমেরিকায় থাকতে পারবেন না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শুধুমাত্র কোর্স চলাকালীন আমেরিকায় থাকতেন পারবেন বিদেশি পড়ুয়ারা (এফ ভিসা)। অর্থাৎ, মাত্র চার বছর। মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে। পরীক্ষায় পাশ করলে বেশিক্ষণ থাকার অনুমতি মিলবে। এবিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রশাসন বিদেশি পড়ুয়াদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আমেরিকায় থাকার সুযোগ দিয়েছে। এর জেরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। একইসঙ্গে করদাতাদের উপর চাপ বেড়েছে। এই প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে যাবতীয় সমস্যা মিটবে। কারণ ভিসার মেয়াদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।’
পড়ুয়াদের পাশাপাশি চাপের মুখে পড়তে চলেছেন বিদেশি সাংবাদিকরাও। বর্তমানে আই ভিসা থাকলে কমপক্ষে পাঁচ বছর আমেরিকায় বসবাস করা যায়। প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে ২৪০ দিন থাকার অনুমতি মিলবে। তারপর কাজের অবস্থা বুঝে আরও ২৪০ দিন। এরপর আর নয়। অর্থাৎ, মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ৪৮০ দিনের বেশি আমেরিকায় থাকতে পারবেন না। সব মিলিয়ে আগামী দিনে বিপাকে পড়তে চলেছেন বিদেশি পড়ুয়া ও সাংবাদিকরা।