নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে ক্রমশ চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তেল সংস্থাগুলি পশ্চিম এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বুধবার রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী সংস্থা রোসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে কোনও মার্কিন সংস্থা বা ব্যক্তি ওই দুই রুশ সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। অন্য দেশের তেল সংস্থাগুলি ওই দুই রুশ সংস্থার থেকে তেল কিনলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথের খোঁজ শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এদিকে, শুক্রবারই বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ‘ভারতের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করবে, এমন কোনও চুক্তি বা শর্ত নয়াদিল্লি মানবে না। আমাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর করানো যাবে না।’ বর্তমানে ভারত যত পরিমাণ তেল আমদানি করে, তার এক-তৃতীয়াংশই আসে রাশিয়া থেকে। ২০২৫ সালে গড়ে প্রতিদিন ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে ভারত। যার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেলই রোসনেফ্ট এবং লুকঅয়েল থেকে আমদানি করা হয়েছে। তবে আমেরিকার শাস্তি এড়াতে ২১ নভেম্বরের পর থেকেই সরাসরি ওই দুই সংস্থার থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিতে চাইছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। প্রতিদিন ৫ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানির জন্য রোসনেফ্টের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করেছিল রিলায়েন্স। কিন্তু আপাতত সেই চুক্তি থেকে রিলায়েন্স সরে আসতে পারে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। অন্য এক ভারতীয় সংস্থা নায়ারা এনার্জিও একই পথে হাঁটতে চলেছে। অপরিশোধিত তেল সংক্রান্ত নজরদারি সংস্থা কেপলারের অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়ার দাবি, রাশিয়া থেকে সরাসরি তেল আমদানি কমানোয় ভারতীয় সংস্থাগুলি পশ্চিম এশিয়া, ব্রাজিল সহ লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, কানাড ও আমেরিকা থেকে তেল কিনতে শুরু করতে পারে। যদিও এর ফলে সংস্থাগুলির খরচ বাড়বে। যদিও ঘুরপথে রাশিয়া থেকে তেল কেনা ভারত বন্ধ করবে না বলে মত সুমিতের।



