Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়নি, টেলিফোনে কথার সময় ট্রাম্পকে জানালেন মোদি

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একবার নয়, একাধিকবার। এবার ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় মার্কিন মধ্যস্থতার সেই দাবি খারিজ করে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়নি, টেলিফোনে কথার সময় ট্রাম্পকে জানালেন মোদি
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একবার নয়, একাধিকবার। এবার ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় মার্কিন মধ্যস্থতার সেই দাবি খারিজ করে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, যুদ্ধবিরতি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে। কোনও বাণিজ্য চুক্তির জন্য নয়। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বুধবার মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে এই কথাবার্তার বিষয়টি জানিয়েছেন। যদিও এরপরও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি ট্রাম্র। বুধবার তিনি ফের বলেছেন, ‘আমি-ই ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়েছি।’ একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, মোদি অসাধারণ মানুষ। গতকাল রাতেই তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে।  

Advertisement

জি-৭ সম্মেলনের  অবকাশে মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জন্য তড়িঘড়ি দেশে ফিরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেজন্য ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মোদির। মিস্রি জানান, দু’জনের ফোনে ৩৫ মিনিট কথা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পকে মোদি স্পষ্টভাবে জানান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কারও মধ্যস্থতায় হয়নি। ভারত আগেও কোনওদিন কারও মধ্যস্থতা মানেনি, ভবিষ্যতেও মানবে না। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে আলোচনার সময় বাণিজ্য চুক্তির কোনও প্রসঙ্গ ওঠেনি। ভারতের প্রত্যাঘাতের পরেই ইসলামাবাদের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসে। ভারত যে সন্ত্রাসবাদকে আর ছায়াযুদ্ধ নয়, পুরোপুরি যুদ্ধ হিসেবেই দেখছে, তাও জানিয়ে দিয়েছেন মোদি। 
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা পরবর্তী অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। এই ঘটনা ঘিরে দু’দেশের সংঘাত চরমে ওঠে। চারদিন পর সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। তারপর থেকেই ট্রাম্পের দাবি, এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। যুদ্ধ না থামালে দুদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এরপরই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একাধিকবার সেই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।  এর পাশাপাশি ইরান-ইজরায়েল ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিস্রি।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর মোদির সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি। এর পরেই ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে ভারত। সেই অপারেশনের পর এই প্রথম কথা হল দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। মিস্রি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির কথার সময় উঠে আসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের প্রসঙ্গও। মিস্রি বলেন, ‘গত ৯ মে মোদিকে ফোন করে ভারতের উপর পাকিস্তানের বড়সড় হামলার আশঙ্কার কথা জানান ভান্স। এর জবাবে মোদি বলেছিলেন, এমন ঘটলে ভারত আরও বড় জবাব দেবে। 
এদিন ফোনে কথা বলার সময় কানাডা থেকে ফেরার পথে আমেরিকায় আসার জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরের শেষে ভারতে কোয়াড সম্মেলনে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানান মোদি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ