


ওয়াশিংটন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর পাকিস্তানের নৃশংস অত্যাচারকে ‘গণহত্যা’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর তকমা দেওয়া হোক। আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এমনই প্রস্তাব পেশ করলেন ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। মার্কিন কংগ্রেসে ওহিয়ো থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ল্যান্ডসম্যানের প্রস্তাব বিদেশ বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে পাকিস্তানি সেনা। তাদের সঙ্গে ছিল জামাত ও অন্যান্য রাজাকার বাহিনী। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মনির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা, পড়ুয়াদের উপর নারকীয় অত্যাচার চালায় ওই বাহিনী। নির্বিচারে খুন, মহিলাদের গণধর্ষণ—কিছুই বাদ যায়নি। ওই প্রস্তাবে ল্যান্ডসম্যান আলাদা করে উল্লেখ করেছেন, হিন্দুদের বিশেষ করে টার্গেট করেছিল পাক সেনা। হাজারে হাজারে মহিলাকে ‘যৌনদাসী’ হতে বাধ্য করেছিল পাকিস্তান। সংখ্যালঘু হিন্দুদের নির্মূল করার জন্য গণহত্যা, গণধর্ষণ, ধর্মান্তকরণ এবং বিতারণের মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে সেই সময় ঢাকায় নিযু্ক্ত তত্কালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের একটি টেলিগ্রামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ ওয়াশিংটনে পাঠানো ওই টেলিগ্রামে ব্লাড ‘বাছাই করে গণহত্যা’র কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, পাক সেনার সাহায্য নিয়ে অবাঙালি মুসলিমরা হামলা চালাচ্ছে এবং বাঙালি হিন্দুদের হত্যা করছে। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল পাঠানো অন্য একটি টেলিগ্রামে পাক সেনার অত্যাচার নিয়ে ওয়াশিংটনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছিলেন ব্লাড। ওই টেলিগ্রামে কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে ২০ জন সদস্যও সই করেছিলেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ল্যান্ডসম্যান আরও একটি টেলিগ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই বছরেই ৮ এপ্রিল পাঠানো ওই টেলিগ্রামে ব্লাড জানিয়েছিলেন, হিন্দুদের উপর এই নগ্ন, সুপরিকল্পিত অত্যাচারকে যেন ‘গণহত্যা’র তকমা দেওয়া হয়।