Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

নজিরবিহীন ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছাড়াই মুলতুবি লোকসভা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝপথে প্রবল প্রতিবাদ, হইচই, বাধাদান এসবই হয়েছে অতীতে। শেষ লগ্নে এসে প্রতিবাদের প্রতীক হিসাবে সংসদের কক্ষ থেকে বিরোধীদের ওয়াক আউটও চেনা চিত্র।

নজিরবিহীন ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছাড়াই মুলতুবি লোকসভা
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝপথে প্রবল প্রতিবাদ, হইচই, বাধাদান এসবই হয়েছে অতীতে। শেষ লগ্নে এসে প্রতিবাদের প্রতীক হিসাবে সংসদের কক্ষ থেকে বিরোধীদের ওয়াক আউটও চেনা চিত্র। কিন্তু বিরোধীদের প্রবল বাধাধান, হট্টগোল এবং কাগজ ছোড়াছুড়ির মতো অচলাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছাড়াই লোকসভা মুলতুবি হয়ে গেল, এই বেনজির ঘটনা শেষ কবে ঘটেছে কেউ মনে করতে পারছে না। অচলাবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিরোধীদের মহিলা এমপিরা ওয়েলে এসে প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বিজেপি অভিযোগ করেছে, বিরোধীরা এদিন সংসদের অন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল। নিরাপত্তার জন্যই সংসদ মুলতুবি করে দিতে হয়েছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। এপস্টাইন ফাইল থেকে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই, যা সব তথ্য সামনে আসছে, সেটা যথেষ্ট ড্যামেজিং।

Advertisement

কথা ছিল প্রটোকল অনুযায়ী বাজেট অধিবেশনের সূত্রপাতে রাষ্ট্রপতি যে অভিভাষণ দিয়েছেন, তারউপর দুদিনের আলোচনার পর বুধবার বিকেল পাঁচটায় সরকার পক্ষের জবাবী ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটাই রীতি। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ ও সেটা নিয়ে আলোচনা পর্ব সাঙ্গ হলে বাজেট আলোচনা শুরু হয়। অর্থাৎ বাজেট নিয়ে আলোচনা, বাজেট পাশ ও অর্থ বিল পাশ হওয়া। কিন্তু ২০২৬ সালে সরকার বনাম বিরোধীদের সংঘাত যে চরম আকার নিতে চলেছে, এই রীতি ভঙ্গ তারই প্রমাণ। কংগ্রেসের দাবি একটাই, আগে রাহুল গান্ধীকে লোকসভায় তাঁর নির্ধারিত সময়সীমায় বলতে দিতে হবে। নচেৎ কোনও বক্তাকেই বলতে দেওয়া হবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও নয়। ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড হয়েছেন আট এমপি। আজ লোকসভায়  পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নির্ধারিত। তখনও যদি একই চিত্র দেখা যায়, তাহলে পুনরায় কি সাসপনেশন জারি করবেন স্পিকার? নাকি আরও বড় কোনো সংঘাত অপেক্ষা করছে? প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ যতক্ষণ না হতে পারছে, ততক্ষণ রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ সংসদ অনুমোদন দিল, এই রীতি পালিত হবে না। অতএব সরকারপক্ষের জবাব দিতেই হবে। রাহুল গান্ধীর জেদ বনাম স্পিকারের রুলিং। এই ইস্যুতে সংসদের অধিবেশন অচল হয়ে রয়েছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের গ্রন্থ এই অচলাবস্থার ভরকেন্দ্র। রাহুল গান্ধী ওই গ্রন্থের একাংশ পড়তে চেয়েছেন। নারাজ সরকার। অনুমতি দেননি স্পিকারও। যুক্তি যে বই প্রকাশিত হয়নি, এবং অভিযোগের প্রমাণ নেই, তা সংসদে তোলা যাবে না। পক্ষান্তরে রাহুল গান্ধী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ওই বই থেকেই উদ্ধৃতি দেবেন। এরকম কোনো বইয়ের অস্তিত্ব নেই বলে সরকারপক্ষ দাবি করলেও, রাহুল বুধবার সেই বইয়ের একটি কপি হাতে নিয়ে সংসদে আসেন। সেই কারণে রাহুলকে বলতে দিতেই হবে এই দাবিতে অনড় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে দেওয়া হয়নি। এরপরই দফায় দফায় সরকারপক্ষের সংসদীয় মন্ত্রী সহ ক্রাইসিস ম্যানেজাররা দেখা করেন লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে। অর্থাৎ কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে আপাতত তার খোঁজ চালাচ্ছে দিশাহারা সরকারপক্ষ। কারণ, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর আলোচনা পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হচ্ছে, ততক্ষণ বাজেট অধিবেশনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হতে পারবে না। ছবি: পিটিআই

সম্পর্কিত সংবাদ