নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টি কমেছে। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বেড়েছে তাপমাত্রা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে এখন ৩৪-৩৫ ডিগ্রির আশপাশে। বর্ষা মরশুমে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশিই থাকে। তাই ভ্যাপসা গরম ফিরেই এসেছে। পরিস্থিতি বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির অনুকূল। জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। আগামী কাল বৃহস্পতিবার ও পরশু শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বজ্রমেঘ থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আজ, বুধবার পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রমেঘ সৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে বজ্রপাত সম্পর্কে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, সেপ্টেম্বর মাসে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে। এর মূল কারণ এমাসে বৃষ্টি কিছুটা কমার জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বাতাসে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্পও থাকে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গের হিমালয় লাগোয়া অংশে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তরাই-ডুয়ার্সের অনেকগুলি চা বাগান এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬০ থেকে ৩০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আজ বুধবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এজন্য ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে। তা থেকে উত্তরবঙ্গে হিমালয় লাগোয়া অংশে শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ তৈরি হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে কয়েকদিন আগে যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছিল সেটি এখন গভীর নিম্নচাপ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব পাকিস্তানের উপর অবস্থান করছে। সেখান থেকে মৌসুমি অক্ষরেখাটি পুরুলিয়া, দিঘা হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ লাগোয়া বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। এই পরিস্থিতি বায়ুমণ্ডলে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশের সহায়ক হয়েছে। জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।