Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোখে দেখতে পান না, মেলেনি চাকরিও, ডোমকলের মিলন এবার রিয়ালিটি শোয়ে

পড়াশোনা করেও চাকরি না পেয়ে গ্রাম ও শহরের রাস্তায় ধূপকাঠি বিক্রি করেন।

চোখে দেখতে পান না, মেলেনি চাকরিও, ডোমকলের মিলন এবার রিয়ালিটি শোয়ে
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: চোখে আলো নেই। জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন। পড়াশোনা করেও চাকরি না পেয়ে গ্রাম ও শহরের রাস্তায় ধূপকাঠি বিক্রি করেন। অন্ধকার যাঁর চিরসঙ্গী, সেই যুবকই এবার আলো ঝলমলে মঞ্চে পৌঁছে গেলেন। গানের রিয়ালিটি শোয়ের রঙিন পর্দায় এবার তাঁকে গান গাইতে দেখা যাবে। মনের জেদ আর নিরন্তর পরিশ্রম, ডোমকলের মিলন শর্মাকে স্বপ্নপূরণের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছে। জনপ্রিয় বাংলা টিভি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোয়ে গানের সুযোগ পেয়েছেন। এতে খুশির হাওয়া এলাকায়।

Advertisement

ডোমকলের ডুমুরতলায় বাড়ি মিলনের। বাবা ছুতোর। মা গৃহকর্মী। চার ভাই- বোনের মধ্যে দিদি আগেই মারা গিয়েছেন। ছোট থেকেই অভাবই পরিবারের নিত্যসঙ্গী। বয়স তখন সাত-আট। মিলনের বাবা জানতে পারেন, দৃষ্টিহীনদেরও বিশেষ পদ্ধতিতে পড়াশোনা করানো যায়। এরপর ডোমকলের একটি ব্লাইন্ড স্কুলে মিলনকে ভর্তি করেন। এরপর পড়াশোনার জন্য কখনও বেলডাঙা কখনও হুগলিতে ছুটে বেড়িয়েছেন। শেওড়াফুলির একটি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর হুগলির একটি কলেজে স্নাতকস্তর উত্তীর্ণ হন। ২০১৮সালে স্নাতকস্তরে পাশ করার পর বহরমপুরের একটি কলেজে ডিএলএড করেন। ২০২৩-এর টেট পরীক্ষাতেও বসেছিলেন। তবে তার ফল এখনও বের হয়নি। চাকরির জন্যও ছুটাছুটি করেছিলেন। কিন্তু মেলেনি।  নদীয়ার কয়েকজন দৃষ্টিহীন মিলে ধূপকাঠির ব্যবসা খুলেছেন বলে জানতে পারেন। এরপর সেখান থেকে ধূপকাঠি এনে তা বিক্রি শুরু করেন। গ্রাম ও শহরের রাস্তায় ঘুরে ধূপকাঠি বিক্রি করেন। তবে জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে একাধিকবার তাঁর তাল কেটেছে গানের সঙ্গে। মিলন জানান, সেই ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় গান শিখতেন। স্কুল শেষ হওয়ার পর তেমন গান শেখা হয়ে ওঠেনি। করোনার সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেইসময় ফের গানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। ধুপকাঠি বিক্রির মধ্যেই সময় পেলে সন্ধ্যায় রেওয়াজ করতেন। কখনও বাড়িতে কখনও বন্ধুর স্টুডিওতে চলত গানের প্র্যাকটিস। মাস দেড়েক আগে একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের অডিশন চলছে বলে জানতে পারেন। প্রথমদিকে তেমন রাজি না হলেও বন্ধুরা জোরাজুরি করায় অডিশন দিতে কলকাতায় যান মিলন। অডিশনে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন বিচারকরা। এবার ওই শোয় গান গাইবেন তিনি। 
মিলন বলেন, আমার জীবনটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। প্রতিটি দিনই বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়। লড়াই করে যাচ্ছি। জানি না কতদূর এগতে পারব। তবে যতদিন বাঁচব সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। মিলনের বাবা মন্টু শর্মা বলেন, জন্ম থেকেই ছেলে দৃষ্টিহীন। তবে ছেলের মধ্যে অদম্য জেদ রয়েছে। ও সফল হবেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ