নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: কল সেন্টারের নাম করে এক বছর ধরে ঘর ভাড়া নিয়ে সাইবার প্রতারণা চালিয়ে অবশেষে পুলিসের জালে দুই যুবতী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজার এলাকায়। শনিবার রাতে আসানসোল সাইবার থানার পুলিস অভিযান চালিয়ে দুই যুবতী নাগমা নাজ ও কিরণ রাউতকে গ্রেপ্তার করে। পুলিসের দাবি, এই দুই যুবতী বিভিন্ন মানুষকে লাকি ড্র জেতার নাম করে ফোন করত। আকর্ষণীয় উপহার পাওয়ার জন্য কিছু টাকা প্রসেসিং ফি হিসাবে চাইত। সেই টাকা তাদের কথা মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠালেই তা দ্রুত তুলে দেওয়া হতো। এইভাবে বহু মানুষকে বেনাচিতি বাজারে তাঁদের অফিসে বসেই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
রবিবার দুই স্মার্ট যুবতীকে আসানসোল আদালতে তোলে পুলিস। বিচারক অর্পিত ভট্টাচার্য দু’জনকেই পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিসের দাবি, শুধু এই দুই মহিলাই নয়, এই চক্রে আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে। অনলাইনে কোনও বাসিন্দা কিছু কেনাকাটা করলেই তার তথ্য চলে আসত প্রতারকদের কাছে। তাই পরই খেলা শুরু হতো। এক বছর ধরে এই প্রতারণা চলছে বলে অভিযোগ।
শনিবার রাতে বিশাল পুলিস বাহিনী বেনাচিতি বাজারের কমলপুর প্লটে হাজির হয়। সেখানেই একটি বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিস দেখতে পায় সেখানে আস্ত কলসেন্টার চলছে। যেভাবে কলসেন্টারে ল্যাপটপ ও মোবাইলের মাধ্যমে কল করার নির্দিষ্ট সেটআপ থাকে এক্ষেত্রেও তাই ছিল। যদিও কলসেন্টার চালানোর কোন বৈধ নথি ছিল না। সেই সময়ে কলসেন্টারেই হাজির ছিল দুই যুবতী নাগমা ও কিরণ। জিন্স, টপ পরা স্মার্ট দুই যুবতী পুলিসকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। পুলিস বিভিন্ন ইলেট্রনিক গ্যাজেটের নথি ঘেঁটে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপরই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিসের জানতে পেরেছে, অনলাইন সংস্থায় মানুষ কেনাকাটা করলেই তার তথ্য চলে আসত প্রতারকদের কাছে। এবার শিকারকে ফোন করে বলা হতো, আপনি অনলাইন থেকে এই নির্দিষ্ট সামগ্রী কেনার জন্য লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার জিতেছেন। কখনও আই ফোন কখনও গাড়ির অফার দেওয়া হতো। দাবি, উপহারের লোভে অনেকেই তাদের কথায় বিশ্বাস করত। এরপরই প্রসেসিং ফিয়ের জন্য পাঠানো টাকা হাতিয়ে নিত। টানা যুবতীরা ওই টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলত। কারণ, ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি অন্যের নথি নিয়ে খোল হয়। কখনও আবার নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল প্রতারকদের।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কিরণের বাড়ি কুলটি থানার সোদপুর এরিয়া অফিস কলোনিতে। নাগমার বাড়ি লয়েল চেলিডাঙা হুজুক পাড়ায়। জানা গিয়েছে। নাগমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ই এই চক্রের মাস্টার মাইন্ড। পুলিস তাকে খুঁজছে।