সংবাদদাতা, কান্দি: মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে জমি মালিকের সঙ্গে বচসা দুই মহিলার। ওই মহিলাদের মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে জমির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভরতপুর থানা এলাকার এই ঘটনার পর দুই নির্যাতিতার স্বামীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মারধরের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয় দুই নির্যাতিতার স্বামীদেরও। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে এলাকায়। বুধবার ধৃত তিনজনকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাদের প্রত্যেককেই জামিনে ছাড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে! মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের দুই বিবাহিত মহিলা গ্রামের ক্যানেলপাড়ের দিকে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা ঘাস কাটার সময় জমি মালিকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মহিলাদের দাবি, তাঁরা একটি জমির আল থেকে গোরুর জন্য ঘাস কেটেছেন। কিন্তু জমি মালিক তা মানতে চাইছিলেন না। জমি মালিকের দাবি তার জমি থেকে মহিলারা ঘাস কেটেছেন। এনিয়ে উভয়পর্ে মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ, পরে জমি মালিক দুই মহিলাকে মারধর করে শ্লীলতাহানিও করেন।
আক্তান্ত এক মহিলা জানিয়েছেন, এদিন বিকেলে আমরা বাড়ির গোরুর জন্য একটি জমির আল থেকে ঘাস কাটছিলাম। সেইসময় জমি মালিক দৌড়ে এসে আমাদের সঙ্গে বচসা জুড়ে দেন। গালমন্দ করে উনি বলছিলেন তাঁর জমি থেকে ঘাস কাটা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা করিনি। সেটা অস্বীকার করায় চুলের মুঠি ধরে মারধর করতে শুরু করে। আমাদের কাস্তে কেড়ে নিয়ে মাথায় আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
অপর আক্রান্ত মহিলা জানান, মারধর করার ফলে ওই মহিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপরেই আমার উপর চড়াও হন উনি। আমার গলায় কাস্তে ধরে মারধর শুরু করেন। মাটিতে ফেলে আমার শাড়ি ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে। আমি চিৎকার করলে মাঠের অন্যান্য চাষিরা আমাদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই গ্রামে। পরে দুই মহিলা ভরতপুর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেন। দুই নির্যাতিতার ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাও করা হয়। দুই নির্যাতিতার কাছে অভিযোগ পাওয়ার পর ভরতপুর থানার পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
অপরদিকে এই ঘটনার পর অভিযুক্তর স্ত্রীও ওই দুই মহিলার স্বামীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন ভরতপুর থানায়। তাঁর অভিযোগ, মাঠের দিকে ঘাস কাটাকে নিয়ে গণ্ডগোল হওয়ার পর ওই দুই মহিলার স্বামী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর করতে থাকে। এই অভিযোগ পেয়ে পুলিস ভরতপুর থানা চত্বর থেকেই দুই নির্যাতিতার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। আক্রান্ত কে মহিলা বলেন, বিষয়টি দাঁড়াল আমরা পুলিসের কাছে অভিযোগ জানাতে এসে আমরাই অপরাধি হয়ে গেলাম।