Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে পাচারের সময় আটক গোরু বোঝাই দু’টি পিকআপ ভ্যান

গবাদি পশুকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নিয়ে যাওয়া পশুপ্রেমী আইনের পরিপন্থী এবং এটি বেআইনি।

রামপুরহাটে পাচারের সময় আটক গোরু বোঝাই দু’টি পিকআপ ভ্যান
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গবাদি পশুকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নিয়ে যাওয়া পশুপ্রেমী আইনের পরিপন্থী এবং এটি বেআইনি। তারপরও মোটরভ্যানকে পিকআপ ভ্যানের রূপ দিয়ে গাদাগাদিভাবে ১৫-১৬টি গোরুকে দড়ি দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে নিষ্ঠুরভাবে প্রকাশ্যে চলছে গোরু নিয়ে যাওয়া আসার কাজ। পুলিসের সামনেই সকাল থেকে রামপুরহাটে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এমনই একের পর এক গোরু বোঝাই ভ্যান চলাচল করলেও দর্শকের ভুমিকায় তাঁরা। অভিযোগ, এভাবেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গোরুগুলি এনে স্থানীয় পশুহাটে অন্যান্য গোরুদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে। তারপর সুযোগ বুঝে সেগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে লাগোয়া মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযানে নেমে রামপুরহাটের বেলিয়া গ্রামের কাছে গোরু বোঝাই দু’টি পিকআপ ভ্যান আটক করল পুলিস। ডিএসপি ডিইবি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, গোরুগুলিকে পাচারের জন্য নৃশংসভাবে বেঁধে মুর্শিদাবাদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দু’টি গাড়ির চালক সহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে রামপুরহাট থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই কারবারে কারা যুক্ত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়খণ্ড থেকে লরিতে চাপিয়ে বা শতাধিক গোরুকে একসঙ্গে হাঁটিয়ে আগে গোরু পাচার হতো বাংলাদেশে। কিন্তু সিবিআইয়ের তৎপরতা বাড়তেই সক্রিয় হয়েছে পুলিস। এর ফলে ধরা পড়ছে গোরু বোঝাই লরি। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে। জেলার একাধিক পশুহাট সিবিআইয়ের রেডারে রয়েছে। তারপরেও পাচার থেমে নেই। জানা গিয়েছে, পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে পাচারের জন্য আনা হয় গোরু। সেগুলি স্থানীয় গোরুর সঙ্গে রাখা হয়। পরে গোরুগুলিকে পশুহাটে আনা হয়। এরপর মোটা টাকার বিনিময়ে গোরু কেনার ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে নেওয়া হয়। গোরু মুর্শিদাবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দু’ধরনের লোককে কাজে নামানো হয়। একজন ‘ডাঙ্গোয়াল’। এরা গরুর সঙ্গেই থাকে। আরেকজন ‘লাইনম্যান’। যারা রাস্তায় পুলিস রয়েছে কি না, তা জেনে কারবারিকে রিপোর্ট করে। এরা গোরু পিছু টাকা পায়। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার যন্ত্রচালিত ভ্যানে গোরু গাদাগাদিভাবে ভর্তি করে বেঁধে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবহণ খরচ বাঁচাতে ভ্যানকে পিকআপ ভ্যানের রূপ দিয়ে একসঙ্গে অনেক গোরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় চিৎকার করছে গবাদি পশুগুলি। চোখ থেকে ঝরে পড়ছে জল, যা অত্যন্ত অমানবিক। সড়কের বিভিন্ন মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণে পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার থাকলেও তাঁদের সামনেই ছুটছে গোরু বোঝাই ভ্যানগুলি। এরই মধ্যে এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ জেলা এনর্ফোসমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযানে নেমে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় বেলিয়া গ্রামের কাছে দু’টি গোরু বোঝাই ভ্যান আটক করে। একটিতে চারটি, অপরটিতে আটটি গোরু ছিল। দু’টি গাড়ির চালক সহ মোট ১১ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে তাঁরা। তাঁদের দাবি, তারাপীঠ, মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গোরুগুলিকে। এদিকে কয়েক কিমি দূরের সিউড়ি থেকে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এসে গোরু উদ্ধার সহ পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে আমজনতার মনে। 
সূত্রের দাবি, এই কারবারে স্থানীয় অনেকেরই মদত রয়েছে। রামপুরহাট থেকে মাড়গ্রাম, তারাপীঠ হয়ে সহজেই মুর্শিদাবাদে যাওয়া যায়। তবে ধরা পড়ার ভয়ে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করছে না কারবারিরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ