Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’দিন পরেও খোঁজ নেই নদীতে ফেলে দেওয়া সেই নাবালকের

দু’দিন পরেও খোঁজ নেই নদীতে ফেলে দেওয়া সেই নাবালকের
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দু’দিন পরেও খোঁজ নেই নবদ্বীপে ভাগীরথীতে ঠেলে ফেলে দেওয়া নাবালকের। চলছে স্পিড বোট নিয়ে নদী-তল্লাশি। যদিও মূল অভিযুক্ত সুমনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে, ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিস রবিবার রাতে ওই নাবালকের মায়ের প্রথম পক্ষের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম মোহন দত্ত। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার পূর্ব সাতগাছিয়ায়। তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সুমনের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। সোমবার ধৃতকে নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন ওই নাবালকের কাকিমা চায়না বিশ্বাসকে গোপন জবানবন্দির জন্য আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, চায়না বিশ্বাস একদিকে ওই নাবালকের কাকিমা, অন্যদিকে সম্পর্কে মাসি। নিখোঁজ নাবালকের মা বন্দনাদেবী চায়নাদেবীর আপন দিদি। চায়নাদেবীর ভাসুর জয়দেব বিশ্বাসের সঙ্গে বন্দনাদেবীর বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে নাবালকের মা বন্দনাদেবী ও চায়নাদেবী সম্পর্কে পরস্পরের জা।
সোমবার নিখোঁজ নাবালকের বাবা-মা ও দুই মাসি নবদ্বীপ থানায় আসেন। চায়নাদেবীর দাবি, ছেলে সুমনকে উস্কানি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে ধৃত মোহন দত্ত। দিদির সঙ্গে আগের পক্ষের স্বামী মোহন দত্তের এখন কোনও সম্পর্ক নেই। কাগজে-কলমে ডিভোর্স না হলেও, ওদের মুখ দেখাদেখি ছিল না। দিদির আগের পক্ষের দুই ছেলে রয়েছে। সেই সংসার ভেঙে যাওয়ার পর আমার ভাসুরের সঙ্গে বছর সাতেক আগে দিদি বন্দনার বিয়ে হয়। দিদি বর্তমান স্বামী জয়দেব এবং এই পক্ষের ছেলেকে নিয়ে সুখেই ছিল। তা সহ্য করতে না পেরেই মোহন দত্ত নিজের ছেলেকে কুবুদ্ধি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। নাবালকের বাবা জয়দেব বিশ্বাস বলেন, পলাতক সুমনের বাবাই আমার ছেলেকে মেরে ফেলার যুক্তি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে সুমন নিজের জন্মদিনের কেক কিনতে নাবালক সৎ ভাইকে নিয়ে নবদ্বীপ শহরের উদ্দেশে বের হয়। তাদের খোঁজ না পেয়ে শনিবার রাতেই সৎ দাদা সুমনের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয় নবদ্বীপ থানায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছোট ভাইকে ভাগীরথীতে নৌকা থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে সুমন। এরপর ফেরিঘাটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। বালকটির খোঁজে রবিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীয়া ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা স্পিড বোট ও ডুবুরি নিয়ে ভাগীরথীতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। সোমবার ঘটনাস্থল এবং নিখোঁজ নাবালকের বাড়ি যান কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ, ডিএসপি(ডিএন্ডটি) এম রহমান এবং নবদ্বীপ থানার আইসি জলেশ্বর তেওয়ারি। সোমবার সকাল থেকেই আবার নবদ্বীপ থানার পুলিস এবং নদীয়া ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা স্পিড বোট নিয়ে ভাগীরথীতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, অভিযুক্ত সুমনের বাবা মোহন দত্তকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে হেফাজতে নিয়ে তাকে জেরা করা হবে।  নিখোঁজের খোঁজে তল্লাশি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ