মুম্বই: পুরসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগে মহারাষ্ট্রে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। গত ২০ নভেম্বর প্রকাশিত সেই তালিকাতেই ভূরিভূরি গরমিলের অভিযোগ! কোথাও লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার, কোথাও আবার শয়ে শয়ে নাগরিকের একই ঠিকানা। অভূতপূর্ব পরিস্থিতি নানদেদ ওয়াঘালা পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের। সেখানে মোট ভোটার ২৩ হাজার ৬৬১। এর মধ্যে ৬০০-র বেশি ভোটারের ‘ঠিকানা’ সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) দু’টি কোচিং সেন্টার! প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ভোটারের ঠিকানার কোনও উল্লেখ নেই। শুধু লেখা ‘নট অ্যাপ্লিকেবল (এনএ)’। এছাড়া, বহু ভোটারের নাম রয়েছে দু’-তিন জায়গায়। খসড়া তালিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে এও জানা গিয়েছে, খাস মুম্বইয়ের প্রায় ১১ শতাংশ ভোটারই ‘ভুয়ো’! এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, বাণিজ্যনগরীর মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৩ লক্ষ। তার মধ্যে ১১ লক্ষের বেশি ভোটারের ‘ডুপ্লিকেট এনরোলমেন্ট’ রয়েছে।
নানদেদ ওয়াগহালা পুরসভার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ খতিয়ে দেখেছে একটি সর্বভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছেন, সেখানে আইআইবি কেরিয়ার ইনস্টিটিউট ও আরসিসি প্যাটার্ন কোচিং রয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় যথাক্রমে ৪০০ ও ২০০ ভোটারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন আইআইবি কেরিয়ার ইনস্টিটিউটের এমডি ও সিইও দশরথ পাতিল। তিনি জানিয়েছেন, ওই পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়েছে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে আগে ভোটার তালিকায় তাদের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। সেই সময় তালিকায় যত বেশি সম্ভব নাম তোলার জন্য টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন জেলাশাসক। সেজন্য কোচিং সেন্টার, এমনকী স্কুলেও শিবির খোলা হয়েছিল। নাম তোলার প্রক্রিয়ায় ভুল-ভ্রান্তির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় এক বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। তাঁর দাবি, খুব কম সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে সকলের তথ্য খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। তা হলে কি গত লোকসভাতেই এই ভোটারদের ব্যবহার করে অনিয়ম হয়েছে, উঠছে সেই প্রশ্নও।
তুমুল বিতর্ক তৈরি হলেও ‘কিছু জানি না’ বলে দায় এড়িয়েছেন নানদেদের জেলাশাসক রাহুল কারদিলে। বলেছেন, ‘তালিকায় কোনও গরমিল থাকলে শুধরে ফেলা হবে।’ কোচিং সেন্টারের ঠিকানা নিয়ে তাঁর সাফাই, নানদেদ কোচিং হাব। তাই পড়ুয়াদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হতেই পারে।
নয়া খসড়া তালিকা প্রকাশ্যের পরই মুম্বই পুরসভায় ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা আদিত্য থ্যাকারে। তাঁর অভিযোগ, পুরসভা এলাকার প্রায় সাত লক্ষ ভোটারের ঠিকানা বা বাড়ির নম্বর পাওয়া যায়নি। অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য কমিশন মাত্র সাতদিন সময় দিয়েছে। সময়সীমা বাড়িয়ে অন্তত ২১ দিন করা হোক। কোনও কোনও ভোটারের নাম দুই, তিন কিংবা সাত জায়গাতেও রয়েছে। এক জন ব্যক্তি যাতে একটির বেশি ভোট দিতে না পারে, কমিশনকে তা নিশ্চিত করতে হবে।