সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভুয়ো ভোটারের পর এবার ভুয়ো বাইক। একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার কার্ডের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে। এবার একই নম্বরে দু’টি বাইক। তার জেরে ফাঁপড়ে পড়েছেন নলহাটির যুবক মহম্মদ আবু তালেব। পুলিস তাঁর বাইকে কোনও কেস দেয়নি। অথচ এক হাজার টাকা ফাইন এসেছে। দিন কয়েক আগে মোবাইলে ফাইন সংক্রান্ত মেসেজ দেখতেই চোখ কপালে ওঠে যুবকের। মল্লারপুর থানার পুলিসের পক্ষ থেকে জরিমানা করা হয়েছে বলেও মেসেজে লেখা হয়েছে। কিন্তু ওই যুবকের দাবি, সম্প্রতি তিনি বাইক চালিয়ে মল্লারপুর মুখো হননি।
শনিবার তিনি নলহাটি থানায় যান। কিন্তু সেখানে অভিযোগ না নিয়ে তাঁকে মল্লারপুর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মল্লারপুর থানায় আসলে প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন এক পুলিস অফিসার। উল্টে তাঁকেই অনলাইনে জরিমানা জমা করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তাঁর গাড়িই নয়, তাহলে কেন জরিমানা জমা করবেন? এই নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে অবশ্য ওসির হস্তক্ষেপে অভিযোগ নেওয়া হয়।
আবু তালেব বলেন, এক বছর আগে একটি বাইক কিনেছি। সেটির নম্বর ডব্লুবি ৪৬এম, ২১৫৫। আরটিওর অ্যাপে বাইকের মালিক হিসাবে আমার নাম রয়েছে। অথচ মোবাইলের মেসেজে একই নম্বরের অন্য কোম্পানির বাইকের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বাইকের সামনের অংশের ছবিও রয়েছে। এটা কী করে হতে পারে।
অভিযোগকারী আবু তালেবের দাদা আবু তাহেরের দাবি, গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে সাড়ে চারটে নাগাদ এই চালান কাটা হয়েছে। যখন এই চালান কাটা হয়েছে, তখন তিনি এবং তাঁর ভাই বাইক নিয়ে মল্লারপুরেই যাননি। তাহলে পুলিস কার বাইকের চালান কাটলেন। নম্বর প্লেট এক হলেও কোম্পানি আলাদা। আবু তালেব বলেন, আমি যদি ফাইন জমা করি। তাহলে বাইকটি আমার বলে প্রমাণ হয়ে যাবে। তাছাড়া তাঁর নম্বরে চলা বাইকটি কোনও ক্রাইম করলে সমস্ত দায় এসে পড়বে তাঁর ঘাড়ে। স্বভাবতই ফাঁপড়ে পড়েছেন তিনি। এদিকে একই নম্বর প্লেটের দুই মোটর বাইকের ঘটনা সামনে আসতেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই অনলাইনে চেক করতে শুরু করেছেন, তাঁদের বাইকের নম্বরে কোনও চালান কাটা হয়েছে কি না।
মল্লারপুর থানার পুলিস জানচ্ছে, এই যুবকের বাইকের নম্বর নকল করে হয়তো অন্য কেউ ব্যবহার করছেন। মূলত চোরাই বাইকের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। এখন ভুয়ো বাইকটিকে ধরতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।
উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সোমবার এআরটিওর সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জানান আবু তাহের। যে ব্যক্তি তাঁর বাইকের নম্বর ব্যবহার করছেন, তাঁকে ধরে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে এআরটিও সৌমেন নন্দী বলেন, নম্বর যাতে নকল না হয়, সেজন্যই সরকার হাই সিকিউরিটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট চালু করেছে। যেটা আসল সেখানে নির্দিষ্ট লোগো ও জাতীয় পতাকার এমব্লেম ও গোপন নম্বর আছে। তাছাড়া নম্বর প্লেট লাগানোর সময় পাঞ্জ করে দেওয়া হয়। নকলে সেটা পাওয়া যাবে না। তাছাড়া একই নম্বরে দু’টি বাইক বেরবে না। পুলিস তখনই ইঞ্জিন নম্বর খতিয়ে দেখলে বাইকটি ধরা পড়ে যেত।