অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর; জাঙ্গিপাড়ার রাজবলহাট দত্তবাড়ির পুজো প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। এই বাড়িতে দেবী দুর্গা দশভুজা নন। দুই হাত বিশিষ্ট গৌরী ও শিবের মূর্তি পুজো করা হয়। ষাঁড়ের পিঠে শিব ও গৌরী, অর্থাৎ দুর্গা অধিষ্ঠান করেন। মহিষাসুর থাকেন না। তবে দুই পাশে কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী ও লক্ষ্মী থাকেন। পুরনো রীতি মেনে এখনও দেবীর ডাকের সাজ হয়।
দত্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজবল্লভীদেবীর পুজার সময় অনুসারেই হয় রাজবলহাট দত্তপাড়ার দত্তবাড়ির পুজো। এলাকায় বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। মহেশনাথ দত্ত বর্ধমান জেলার পাড়াতল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। রাজবলহাটে তিনি জমিদারি কেনেন। এরপর থেকেই বিশেষ এই দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। দুর্গামন্দিরের পাশাপাশি তিনি শিব, দামোদর জিউয়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে বোধন হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী– তিনদিন বলি হয়। ছাগল, ছাঁচি কুমড়ো, আঁখ, লেবু, আদা বলির প্রচলন রয়েছে।
পরিবারের সদস্য শান্তিনাথ দত্ত জানান, প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো এই পুজো। জমিদারি আমলের দুর্গামণ্ডপ, নাটমন্দির আর নেই। দুর্গামণ্ডপ সংস্কার করা হয়েছে। তবে নাটমন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে। রাজবল্লবীদেবীর কাছে থাকা জল ঘড়িতে দেখানো সময় অনুযায়ী পুজো হয়। সন্ধি পুজতে ভেঁপু বাজে। এখানে দুর্গার দু’টি হাত। মহিষাসুরও থাকেন না। আমাদের কাছে খুবই জাগ্রত এই দেবী।