নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একই দিনে শিলিগুড়ির শহরের উপকণ্ঠের দুই প্রান্ত থেকে উদ্ধার হল দু’টি মৃতদেহ। যদিও মৃতদের নাম পরিচয় সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিস জানাতে পারেনি। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস অজ্ঞাত ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একই দিনে শিলিগুড়ির শহরের উপকণ্ঠের দুই প্রান্ত থেকে উদ্ধার হল দু’টি মৃতদেহ। যদিও মৃতদের নাম পরিচয় সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিস জানাতে পারেনি। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস অজ্ঞাত ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথম ঘটনাটি শিলিগুড়ি শহরে ঢোকার মুখে মাটিগাড়া ব্লকের পঞ্চনই সেতুর নীচে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিস অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ওই এলাকা দিয়ে কাজে যাওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক সেতুর নীচে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা কাছে গিয়ে লক্ষ্য করে নিথর দেহ। এরপর তাঁরাই খবর দেন মাটিগাড়া থানার পুলিসকে। পুলিস ভ্যান এসে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসক মৃত বলে জানালে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর কোনও স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরে পঞ্চনই সেতুর আশেপাশে থাকছিলেন। স্থানীয়রাই তাঁকে মাঝেমধ্যে খাবার ও জল খেতে দিতেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা, অসুস্থতার কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। ওই ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিস।
অন্যদিকে, এদিনই বিকেলে শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে ফুলবাড়ি ব্যারেজ থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বিকেলে ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজের ৩ নম্বর লকগেট থেকে ওই যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ছুটির দিন থাকায় এদিন ব্যারেজে প্রচুর মানুষ ঘুরতে এসেছিলেন। সেইসময় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মহানন্দা ব্যারেজের ৩ নম্বর গেটে একটি দেহ ভাসতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিস পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিস। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে পুলিস তাঁর পরিচয় জানতে পারেনি। তার পরনের জামাকাপড় সহ অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করে নাম ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।
দু’টি ঘটনাতেই মৃতদের পরিচয় না জানতে পারায় প্রাথমিকভাবে তদন্তে হোঁচট খাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা। তবে ব্যারেজে উদ্ধার হওয়া যুবক কোনও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জলে দেহ পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি খুন করে তাঁর দেহ জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন ফাঁসিদেওয়ার থানার অফিসাররা।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আমরা দু’টি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। মৃতদের পরিচয় জানা যায়নি। নাম ঠিকানা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।