Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাত্রের মৃত্যুতে তুলকালাম পাঁশকুড়া, প্রতিবাদীদের লাঠিপেটা পুলিসের, ডেপুটেশন

ছাত্র মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম পাঁশকুড়ায়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে জনতা ভাঙচুর চালানোর সময় পুলিস বেদম লাঠিচার্জ করে।

ছাত্রের মৃত্যুতে তুলকালাম পাঁশকুড়া, প্রতিবাদীদের লাঠিপেটা পুলিসের, ডেপুটেশন
  • ২৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া: ছাত্র মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম পাঁশকুড়ায়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে জনতা ভাঙচুর চালানোর সময় পুলিস বেদম লাঠিচার্জ করে। ছ’ জন দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দা গ্রেপ্তার হন। অভিযুক্ত সিভিকের বাড়িতে পুলিস ক্যাম্প বসানো হয়েছে। শুক্রবার অভিযুক্তের শাস্তি ও পুলিসের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে নাগরিক সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এসপি অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এদিকে শুক্রবারের ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের মিষ্টির দোকানের পাশে একটি চিপসের প্যাকেট রাস্তার ধারে পড়েছিল। সেটি কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাস। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ওই ঘটনায় একটা অভিযোগ এসেছে। আইনি পদক্ষেপ করা হবে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার মৃত ছাত্রের দেহ ময়নাতদন্তের পর পাঁশকুড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গোসাইবেড় বাজারে দেহ কিছুক্ষণ রাখার পর সেখান থেকে সোজা দক্ষিণ বড়হৎ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই গ্রামে সিভিক ভলান্টিয়ার তথা দোকানদার শুভঙ্কর দীক্ষিতের বাড়ি। তাঁর বাড়ির সামনে দেহ নামিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদাররা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে শামিল হন। পরিবারের সদস্যরা ভিতর থেকে দরজায় খিল তুলে দিয়েছিলেন। কয়েকজন প্রতিবাদী বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দেন। সাবমার্সিবল পাম্পের পাইপ লাইন ভেঙে দেওয়া হয়। উত্তেজনা ছড়ানোয় পুলিস লাঠিচার্জ শুরু করে। র‌্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স প্রতিবাদীদের বেদম লাঠিপেটা করে। ছাত্রের দেহ রেখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন প্রতিবাদী মানুষজন। এরপর পুলিস ওই দেহ নিয়ে গোসাইবেড় বাজার লাগোয়া ওই ছাত্রের বাড়িতে আনে। সেখান থেকে অনেক রাতে পুলিসের উদ্যোগে দেহ সৎকার করতে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে গোসাইবেড় বাজার ছিল শুনশান। সিভিক ভলান্টিয়ারের দোকান বন্ধ ছিল। বাজার থেকে ৫০০ মিটার দূরে দক্ষিণ বড়হৎ গ্রামের ওই সিভিকের বাড়ি। এদিন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে পুলিস টহল দিচ্ছে। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের দোতলা পাকাবাড়ি। জানালার কাচ এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। পাশেই পড়ে রয়েছে কুঠার, কাটারি। ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের মা কল্যাণী দীক্ষিত বলেন, রাতে ওই ছাত্রের দেহ নিয়ে কিছু লোক সশস্ত্র অবস্থায় আমাদের বাড়িতে আসে। তারপর ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সঙ্গে পেট্রলও এনেছিল। 
নিহত ছাত্রের মা সুমিত্রা দাস বলেন, আমার ছেলে চিপস চুরি করেনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তা পরিষ্কার হয়েছে। তার উপর অন্যায়ভাবে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই আঘাত মেনে নিতে পারেনি আমার ছেলে। ফাঁকা বাড়িতে আগাছানাশক রাসায়নিক খেয়ে নেয়। তারপর হাসপাতালে মারা যায়। আমরা ওই সিভিকের শাস্তি চাইছি। মৃত ছাত্রের দাদা প্রবোধ দাস বলেন, ময়নাতদন্তের পর আমরা দেহ নিয়ে প্রথমে বাজারে আসি। এলাকায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে পুলিসের বিশাল বাহিনী আমাদের সামনে ও পিছনে চলে আসে। দেহ নিয়ে আমরা ওই সিভিকের বাড়িতে যাই। সেখানেই পুলিস এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করেছে। তারপর সকলে পালিয়ে যেতে পুলিস ভাইয়ের দেহ নিয়ে গোসাইবেড় বাজারে আসে। অনেক রাতে দেহ সৎকার হয়। পুলিসের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করছি।  কান্নায় ভেঙে পড়েছে মৃত ছাত্রের মা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ