Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ফের ট্রাম্পের মুখে যুদ্ধবিরতি! হামলা-হুমকির পর হঠাৎ ভোলবদল, নেপথ্যে ইরানের আগ্রাসন?

ভারত-পাকিস্তানের পর এবার ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে লাগাম। আবারও আচমকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু ১২ দিন পর যুদ্ধ কি থামল অবশেষে?

ফের ট্রাম্পের মুখে যুদ্ধবিরতি! হামলা-হুমকির পর হঠাৎ ভোলবদল, নেপথ্যে ইরানের আগ্রাসন?
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তেহরান, তেল আভিভ ও ওয়াশিংটন: ভারত-পাকিস্তানের পর এবার ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে লাগাম। আবারও আচমকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু ১২ দিন পর যুদ্ধ কি থামল অবশেষে? নাকি ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’!

Advertisement

সোমবার রাতেও কাতারে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছিল ইরানি মিসাইল। আমেরিকায় তখনও বিকেল। তারপর সন্ধ্যা হতে না হতেই (ভারতীয় সময় মঙ্গলবার কাকভোরে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচমকা ঘোষণা, ‘ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি চালু হচ্ছে। দয়া করে কেউ তা লঙ্ঘন করবেন না।’ ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে বি-২ বম্বার হামলা, খামেনেইকে সরানোর হুমকির পর ট্রাম্পের এই ভোলবদলে অবাক হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। প্রাথমিকভাবে ‘নরমে গরমে’ রাজিও হয় পশ্চিম এশিয়ার যুযুধান দুই দেশ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের শুরু হয়ে যায় মিসাইল হামলা। তাহলে কি ট্রাম্পের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসলে বালির বাঁধ? প্রশ্ন উঠতে শুরু করায় ফের মুখ খোলেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা সত্ত্বেও ইজরায়েল ও ইরান উভয়পক্ষই তা লঙ্ঘন করেছে। দুই দেশের আচরণে আমি খুশি নই। বিশেষ করে ইজরায়েলের ভূমিকায় আমি বেশি হতাশ। তারা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েও অবস্থান বদলেছে।’ স্বাভাবিকভাবেই এরপর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগবে, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে। 
মাসখানেক আগে প্রায় একইভাবে আগ বাড়িয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও ভারতের দাবি, মার্কিন মধ্যস্থতায় কিছু হয়নি। বরং ইসলামাবাদের অনুরোধেই সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয় নয়াদিল্লি। এবার পশ্চিম এশিয়াতেও যুদ্ধ থামানোর আগাম ঘোষণা করে ফের বিড়ম্বনায় ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নিজের নাম ভাসিয়ে দিতেই কি তাঁর এহেন পদক্ষেপ?
যুদ্ধ পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করে সোমবার রাত থেকেই। বিগত কয়েকদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার ভোলবদল করেছেন। ইরান কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার টেবলে এসেছিল। তবু আগের অবস্থান থেকে সরে দুম করেই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে ট্রাম্পের আমেরিকা। মার্কিন বি-২ বম্বার ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেয় ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘এবার শান্তি ফেরাতে হবে ইরানকে। তেহরান কোনওভাবে মার্কিন পরিকাঠামোকে নিশানা বানানোর চেষ্টা করলে ভয়ঙ্কর তার ফল হবে।’ এমনকী খামেনেইকে সরানোর হুঙ্কারও দেন তিনি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই সোমবার রাতে প্রত্যাঘাত হানে তেহরান। কাতারে অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনাঘাঁটি আল উদেইদ লক্ষ্য করে তারা একের পর এক মিসাইল ছোড়ে। কাতার ও আমেরিকা, দুই দেশই দাবি করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাঝ আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেনি।
যদিও মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরানের এই আগ্রাসন হাঁটু কাঁপিয়ে দেয় আমেরিকার। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি শীর্ষ কূটনীতিক ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের নিয়ে সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ট্রাম্পের নির্দেশেই শনিবার থেকে ইরানের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ও পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। সিচুয়েশন রুম থেকে ট্রাম্প ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) শুনছ, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে যাচ্ছি।’ দৌত্যের এই
প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় কাতার সরকারও। ট্রাম্প সরাসরি যোগাযোগ করেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানির সঙ্গে। যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য ইরানের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। ইজরায়েলের দিক থেকে বার্তা আসে, ইরান হামলা থামালে তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ইরানও তাতে সম্মতি দেয়। 
এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতানিয়াহু জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি। তবে তেহরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে জবাব অনিবার্য। ইরানের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়, ইজরায়েল হামলা বন্ধ করলে তারাও যুদ্ধবিরতিতে রাজি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শুধু মিসাইল ছোড়া নয়, শুরু হয় দোষারোপের পালাও। ফলে ট্রাম্পের ‘অসার’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়ার শান্তি আপাতত অধরাই।   

সম্পর্কিত সংবাদ