ওয়াশিংটন: ততক্ষণে ভেনেজুয়েলায় অপারেশন শেষ। বন্দি করা হয়েছে সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টে ২০মিনিট নাগাদ সমাজমাধ্যমে সেকথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কিছুক্ষণ পরেই সরাসরি তাঁকে ফোন করেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস রিপোর্টার টাইলার পেজার। কথা হয়েছিল প্রায় ৫০ সেকেন্ড।
ওই ঘটনা সম্পর্কে টাইলার জানিয়েছেন, শুক্রবার ফ্লোরিডার একটি হোটেলে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। রাত ১টা নাগাদ তাঁকে তাঁর ভেনেজুয়েলার সহকর্মী অ্যানাতোলি কুর্মানায়েভ ফোন করেন। জানান, কারাকাসে বোমা হামলা শুরু হয়েছে। টাইলারের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, হামলার নেপথ্যে আমেরিকাই। আর সাত পাঁচ না ভেবে সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করেন তিনি। ট্রাম্পকে চারটি প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তরে ট্রাম্প শুধু বলেন, ‘আমার সাংবাদিক সম্মেলনের দিকে নজর রাখুন।’
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নিয়ে দেশের অন্দরেও আক্রমণের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। মুখ খুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন ইন্দো-মার্কিন সদস্যও। কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তির অভিযোগ, এক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনও নেননি ট্রাম্প। এভাবে সংবিধানের ক্ষমতা বিভাজন নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। আর এক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না বলেছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিলেন ট্রাম্প। পামেলা জয়পালের কটাক্ষ, আমেরিকাই চালাতে পারছেন না ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলা শাসন করতে চাইছেন তিনি।
এদিকে, ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান শিথিল করার বার্তা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এবার ভেনেজুয়েলাকে ‘চালাবে’ আমেরিকা। একদিন পরই সেই সুর নরম করে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্যান্য নেতৃত্ব যদি ঠিক দিশায় কাজ করে, তাহলে আমেরিকা তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এজন্য ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বর কাজ কর্মের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।