Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ভারতের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, আমেরিকার চালু কাল থেকেই, ঘোষণা ট্রাম্পের

কূটনৈতিক প্রোটোকল অথবা বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনও তোয়াক্কা করলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনও রাখঢাক না রেখে ভারতের উপর সরাসরি জরিমানার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন।

ভারতের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, আমেরিকার চালু কাল থেকেই, ঘোষণা ট্রাম্পের
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কূটনৈতিক প্রোটোকল অথবা বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনও তোয়াক্কা করলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনও রাখঢাক না রেখে ভারতের উপর সরাসরি জরিমানার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। জানিয়ে দিলেন, রাশিয়ার থেকে সবথেকে বেশি অস্ত্র আর জ্বালানি ক্রয় করার শাস্তি হিসেবেই ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছে আমেরিকা। এমনকী জরিমানাও দিতে হবে। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া থেকে সবথেকে বেশি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করে ভারত। সর্বাধিক পরিমাণ জ্বালানিও ক্রয় করে। সুতরাং এই কারণেই তাদের ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। সঙ্গে জরিমানাও। পয়লা আগস্ট থেকেই তা চালু হবে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই ঘোষণার শেষে আবার লিখেও দিলেন মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন)।

Advertisement

অপারেশন সিন্দুর আলোচনায় মঙ্গলবার লোকসভায় নরেন্দ্র মোদি কোনও বিদেশি শক্তির চাপের কথা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ফের ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, ভারত আমাদের ভালো বন্ধু। ওরা আমার কথায় যুদ্ধ থামিয়েছে। কিন্তু ওরা সবার চেয়ে বেশি শুল্ক চাপায়। তাই আমাদেরও শুল্ক চাপাতে হবে। সুতরাং বুধবারই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি যেমনই হোক না কেন, ভারতের রপ্তানি করা পণ্য আমেরিকায় প্রবেশ করলে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। কোনওভাবেই এই বাণিজ্যশুল্ক ভারত এড়াতে পারবে না। বুধবার ইউরোপ সফর থেকে আমেরিকায় ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একথা জানিয়েছেন। আবার তারপর নিজের সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মনে রাখবেন, ভারত আমাদের বন্ধু। তবুও তাদের সঙ্গে আমাদের যতটা বাণিজ্য হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। কারণ ভারতের আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ছিল। বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি আমদানি শুল্ক ভারত আরোপ করে। আবার একইসঙ্গে ভারত যত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করে, তার সিংহভাগ রাশিয়া থেকে। আবার চীনের পাশাপাশি ভারতও রাশিয়া থেকে সবথেকে বেশি জ্বালানি ক্রয় করে। 
ট্রাম্পের এই ঘোষণার কিছু আগেই অবশ্য বুধবার রাজসভায় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি যাই হোক, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করাই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু তাঁর এই বার্তা যে নিছকই কথার কথা, কার্যত  ট্রাম্প বুধবার সেকথাই বুঝিয়ে দিলেন। যদিও এরপরও এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই প্রশ্নে মোদিকে বিঁধেছে। দলের নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, অপারেশন সিন্দুর থামানোর ৩০ বার দাবি, পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন, পাকিস্তানকে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের আর্থিক সহায়তায় মার্কিন মদত—এসব জেনেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নীরব ছিলেন। ভেবেছিলেন আমেরিকা ভারতকে বিশেষ ট্রিটমেন্ট দেবে। কিন্তু সেটা মোটেও হচ্ছে না। এরপরই মোদিকে ইন্দিরা গান্ধীর থেকে শিক্ষা নিতে পরামর্শ দেন রমেশ।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ