নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: ভাঙচুর, আগুনের যেন বিরাম নেই। নতুন করে অশান্ত বাংলাদেশ। যেকোনও অশান্তি হলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে যায় ভারত-বিরোধী পোস্ট! এবারও শুরু হয়ে গিয়েছে ভারত-বিরোধী প্রচার। এবার প্রোপাগান্ডা ভিডিয়ো বানিয়ে ছাড়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু, কারা বানাচ্ছে এসব আবর্জনা? গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নেপথ্যে কুখ্যাত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই! অপপ্রচারের ভিডিয়ো তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে এবং পাকিস্তানের করাচি, পেশোয়ারেও। হিন্দি, উর্দু বা ইংরেজিতে নয়, এসব বানানো হচ্ছে বাংলাতেই। কারণ, সেখানে শুধু ভারত-বিরোধিতা নয়, ১৯৭১-এর প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামি লিগেরও বদনাম করা হচ্ছে। সেখানে সুখ্যাতি শুধুই পাকিস্তানের! তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না, ওইসব ভিডিয়োর আসল উদ্দেশ্য কী?
মাঝেমাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করে ভারত এবং মোদি বিরোধী পোস্ট বেড়ে যায়। বছরতিনেক আগে এবার ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ইসলামিক দেশ থেকেই ওই পোস্ট করা হচ্ছিল। এমনভাবে প্রচার শুরু হয়েছিল, যেন সমস্ত ইসলামিক দেশই ভারত-বিরোধী। কিন্তু, তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন দেশের নাগরিক সেজে আইএসআই ওই প্রচার চালাচ্ছে। একাধিক টুইটার হ্যান্ডেল চিহ্নিতও করা হয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বাংলাদেশ ইস্যুতেও বহু ভুয়ো প্রোফাইল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে ভারত-বিরোধী পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বেশি করে। তবে, ব্রেনওয়াশ হওয়ায় কেউ কেউ সেই পোস্ট শেয়ারও করছে। অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশ জুড়ে। অথচ, বারবার কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে ভারতকেই। যেকোনও ইস্যুতেই এক ও একমাত্র টাগের্ট ভারত। এর নেপথ্যে আইএসআই।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছিলেন বহু বাঙালি মুসলিম। তাঁদের বেশিরভাগই পাকিস্তানে এখনও বঞ্চিত। পাননি নাগরিকত্ব। তাঁদের কয়েকজনকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই কুৎসা প্রচারে। ভারত-বিরোধী প্রচার চালালে নাগরিকত্বসহ নানা ধরনের সুবিধা মিলবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাদের। যারা বাংলায় দক্ষ তাদের দিয়েই ওই ভিডিয়ো বানানো হচ্ছে। ওপার বাংলারও কিছু স্থানে তৈরি হচ্ছে সেসব। এমন বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। সেখানে উড়ছে পাকিস্তানের পতাকাও!