Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুকুরিয়ায় অন্নপূর্ণাপুজো আয়োজন ত্রিনয়নী ক্লাবের

ঝাড়গ্রামের সাপধরা পঞ্চায়েতের বনকাটি, পুকুরিয়া, কুণ্ডলডিহির প্রধান উৎসব অন্নপূর্ণা পুজো।

পুকুরিয়ায় অন্নপূর্ণাপুজো আয়োজন ত্রিনয়নী ক্লাবের
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের সাপধরা পঞ্চায়েতের বনকাটি, পুকুরিয়া, কুণ্ডলডিহির প্রধান উৎসব অন্নপূর্ণা পুজো। ত্রিনয়নী যুব সঙ্ঘের উদ্যোগে পুকুরিয়ায় ৩৪তম বর্ষের পুজো ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গিয়েছে। নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর সমস্ত আচার পালন করা হয়। এলাকার সমস্ত মানুষ এই পুজোয় শামিল হন।

Advertisement

ঝাড়গ্ৰাম শহরের কাছেই পুকুরিয়া। গ্ৰামের মাঠেই বিশাল মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণাপুজো এই গ্ৰামের বাসিন্দাদের প্রধান উৎসব। পুজো কমিটির সদস্যরা সকালে স্থানীয় পুকুর থেকে পুজোর ঘটে জল ভরে আনেন। দুপুরে খিচুড়ি মহাভোগের আয়োজন করা হয়। এবার ক্লাবের এক সদস্যের ছেলে অসুস্থ থাকায় অনাড়ম্বরভাবে পুজো হচ্ছে।অন্নপূর্ণাপুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বাচ্চাদের জন্য নানা খেলাধুলো হয়। মেলা বসে। পুজো কমিটির তরফে এবার সেসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাপধরা গ্ৰামের বাসিন্দারা এখনও কৌম রীতি অনুযায়ী সবাই মিলে উৎসব-অনুষ্ঠান পালন করেন। বিপদে-আপদে একে অপরের পাশেও দাঁড়ান।
সাতের দশক থেকে গ্ৰামবাসীদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে ত্রিনয়নী ক্লাব তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। করোনাকালে সঙ্কটের সময় গ্ৰামের দুঃস্থ বাসিন্দাদের চাল সহ অন্য খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। গ্ৰামের কোনও বাসিন্দা টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়লেও সহযোগিতা করা হয়। দুঃস্থ মেধাবী ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালাতে ক্লাবের সদস্যরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
ক্লাবের সম্পাদক সরোজ রায় বলেন, গ্ৰামে দুঃখজনক ঘটনার জেরে এবার অনাড়ম্বরভাবে পুজো করা হচ্ছে। এলাকার সমস্ত বাসিন্দা পুজোয় শামিল হয়েছে। একসময় অশোক মাহাত, জনার্দন রায়, রামানন্দ রায় সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবকের উদ্যোগে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। ক্লাবের প্রবীণ সদস্য অশোক মাহাত বলেন, পুকুরিয়া কৃষিপ্রধান এলাকা। সমৃদ্ধির আশায় গ্রামের ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো হয়। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর সূচনা করেছিলাম। তিন দশক ধরে এই পুজো হয়ে চলেছে।
ক্লাবের তরুণ সদস্য দেবজিৎ মাহাত বলেন, আমাদের এলাকায় যে কোনও উৎসব একসঙ্গে পালন করা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের কারণেই এতবছর ধরে এই পুজো হয়ে চলেছে। স্থানীয় বধূ টুম্পা মাহাত বলেন, মণ্ডপে পুজোর জোগাড়, আলপনা দেওয়া, প্রসাদ বিলি গ্ৰামের মেয়েরাই করেন। দেবীর কাছে একটাই প্রার্থনা, সবার মঙ্গল হোক। ঘরে ঘরে সমৃদ্ধি আসুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ