নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: সরকারি খাসজমি এক ব্যক্তিকে পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন খোদ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। অভিযোগ, এই জমি পাইয়ে দেওয়ার জন্য লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। এই বিষয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়তেই বেশ শোরগোল পড়ল কেশপুর জুড়ে। কেশপুর ব্লকের সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনায় তাজ্জব ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতির নাম শেখ হারুন আল রসিদ। এমনকী তাঁর সহকর্মী সুভাষ রঞ্জন ঘোড়ইয়ের নামও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কেশপুর ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জানাচ্ছেন, কেশপুর জুড়ে বেশকিছু নেতা-কর্মীর কর্মকাণ্ডের জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। অবশ্য অভিযোগ প্রমাণ হলে অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে কেশপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন, একটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টির সত্যতা দেখা হচ্ছে। তবে দল কোনও অনৈতিক কাজ সমর্থন করে না। যদি এই ধরনের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সুরে কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি দোষ প্রমাণিত হয়, তবে দলের তরফেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগটি করেছেন কেশপুর ব্লকের গোলাগ্যেড়া এলাকার বাসিন্দা বাপি মল্লিক। তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, ৫২৪ নম্বর জেএল বিশিষ্ট দীঘা মৌজার ০.০৩ ডেসিমেল সরকারি খাস জমি রয়েছে। সেই সরকারি জমি দখল করিয়ে বাড়ি তৈরি করতে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই সময় অঞ্চল সভাপতি ও তাঁর সহকর্মী এক লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু সেই জমিতে বাড়ি তৈরি করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমানে এই বিষয়ে জানাতে গেলে অঞ্চল সভাপতি তা অস্বীকার করছেন।তৃণমূলের এক নেতা বলেন, কেশপুর জুড়ে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কোন্দল চরমে উঠছে। তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্লক নেতৃত্বকে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার নানা বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি স্থানীয় বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। তবে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে অঞ্চল সভাপতিকে ফাঁসানো হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কারণ, কিছু দিন আগে সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গাছ কাটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এই অঞ্চল সভাপতি।
এদিন অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতি শেখ হারুন আল রসিদ বলেন, আমি কিছু অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করেছিলাম। পরিকল্পনা করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। দলীয় কিছু নেতা চক্রান্ত করছেন। সত্যের জয় হবেই।
এনিয়ে কটাক্ষ করে কেশপুর ব্লকের বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শুভেন্দু সামন্ত বলেন, তৃণমূলের বেশিরভাগই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল দল কোনও পদক্ষেপ নেবে না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যোগ্য জবাব দেবেন সাধারণ মানুষ।