নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুই জেলার সাংগঠনিক বৈঠকে নির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বৈঠকে এটা স্পষ্ট করে দেওয়া হল যে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের দিকে দলের আলাদা নজর রয়েছে। আর বারাসতের ক্ষেত্রে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলা এবং ১৫ দিন অন্তর দলীয় বৈঠক করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। দুই জেলার বৈঠকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি চলবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জেলাভিত্তিক বৈঠক শুরু করেছে তৃণমূল। জেলায় সংগঠনের কোথায় ফাঁকফোকর রয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে দলীয় বৈঠকে। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্বকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে বৈঠক করেন অভিষেক এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে বিধানসভা আসন ভিত্তিক তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। বিধানসভা আসন ভিত্তিক খামতিগুলি চিহ্নিত করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন নেতৃত্ব। নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের দিকে তৃণমূলের আলাদা নজর রয়েছে, সেটা দলীয় বৈঠকে উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন নিয়ে পৃথক বৈঠক করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছে—সততা, বিতর্কহীন কাজ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই ও সংগঠনকে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, এদিন বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সুব্রত বক্সি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছে—আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে বিধায়কসহ প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকে থাকতে হবে। জেলা সংগঠনের পদাধিকারীদের নিয়ে ১৫ দিন অন্দর বৈঠক করতে হবে। গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ালে হবে না। যাঁরা পদে আছেন, তাঁদের আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত কোনও ছুটি নেই, প্রত্যেক দিন মানুষের পাশে থেকে তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।