নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এসআইআর চলাকালীন একমাত্র সহায়তা ক্যাম্প ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারেনি নদীয়া দক্ষিণ তৃণমূল। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এসআইআরকে কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে বেগ পাওয়াতে একপ্রকার ব্যর্থ শাসক শিবির। যদিও শেষলগ্নে সেই ফাঁক পূরণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ডিসেম্বরজুড়ে সাংগঠনিক জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে একাধিক কর্মসূচি। ব্লক-টাউনে বড় জনসভা থেকে বুথ ভিত্তিক পথসভা, লম্বা সূচি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে জেলা নেতৃত্বের তরফে। যদিও দলের একাধিক স্বঘোষিত ‘মতুয়া মুখ’-কে এই পর্বে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই জমেছে হতাশা।
রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট ২, হরিণঘাটা এবং রানাঘাট ১ এর মতো একাধিক ব্লক মতুয়া অধ্যুষিত। যেখানকার বহু মানুষ ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবে এসআইআর নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁরা। ২০০২ সালে পিতৃপুরুষের নাম না থাকায় বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, এই সুযোগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারবে তৃণমূল। কারণ নদীয়া দক্ষিণে বরাবর তাদের ফল খারাপ হয়েছে। আর মতুয়া ভোট ব্যাংককে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু এসআইআর পর্বের প্রায় শেষলগ্নে এসে হতাশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ রানাঘাট সংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ঘাসফুল শিবির দাবি করেছে, ডিসেম্বরের শেষে তাদের লাগাতার কর্মসূচি রয়েছে। জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে পথসভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের। এর মধ্যে বড় অঞ্চল হলে দু’টি করে এবং ছোট অঞ্চল হলে একটি করে পথসভা করতেই হবে বলে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এলাকাভিত্তিক শিডিউল। রানাঘাট, কল্যাণী, তাহেরপুর-বীরনগর, গয়েশপুর, শান্তিপুরের মতো শহরের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫টি করে পথসভা করতে হবে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ হবে না এখানেই। দ্বিতীয় দফায় রাখা হচ্ছে বড় জনসভা এবং বুধ ভিত্তিক পথসভা। ১৬ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নদীয়ার দক্ষিণে প্রায় আড়াই হাজার বুথে আড়াই হাজারটি পথসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। এছাড়াও ২৩টি ব্লক টাউন-ইউনিটে একটি করে বড় জনসভা করতে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এই জনসভাগুলির ক্ষেত্রে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা প্রবল। না থাকলেও প্রতিটি জনসভায় একজন করে জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রথম পর্বে আমরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম ঠিকমতো যাতে জমা পড়ে সেই দিকটাতেই বেশি নজর দিয়েছিলাম। সেটিও আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অঙ্গ ছিল। কিন্তু বাকি ডিসেম্বরজুড়ে আমরা ঢালাও রাজনৈতিক কর্মসূচি করছি। আমাদের পরিশ্রম ভালো ফল এনে দেবে এবার রানাঘাট সাংগঠনিক জেলায়। যদিও তৃণমূলকে কটাক্ষ করে নদীয়ার দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, তৃণমূল স্বপ্নের জগতে বাস করছে। দুর্নীতি তাদের গলাঅবধি। মানুষ তাদের বিসর্জন দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সাফল্যের স্বপ্ন দেখার চেয়ে ভালো করে কান পাতলে তারা বিসর্জনের বাদ্যি শুনতে পাবে।