Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা না দেওয়ায় খড়্গপুরে বাড়ি নির্মাণ বন্ধ রাখার অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামীর বিরুদ্ধে

অভিযোগের তির এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকদারের বিরুদ্ধে।

টাকা না দেওয়ায় খড়্গপুরে বাড়ি নির্মাণ বন্ধ রাখার অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামীর বিরুদ্ধে
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় হাউজিং ফর অল প্রকল্পে বাড়ি তৈরির কাজ মাঝপথে বন্ধ রাখার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল খড়্গপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, এক উপভোক্তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকদারের বিরুদ্ধে। উপভোক্তা ইতু গোপের অভিযোগ, প্রায় তিনমাস ধরে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় কাজ শুরু করা হচ্ছে না। যদিও কাউন্সিলার জয়ন্তী সিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, এরকম একটা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। কাউন্সিলারের স্বামীকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। টাকা চাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। দ্রুত কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও। 

Advertisement

অভিযোগকারী আরও বলেন, আমার বাড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাপল্লিতে। আমার ও এক আত্মীয়ের বাড়ির কাজ একই সঙ্গে শুরু হয়। কিন্তু আমার বাড়ি লিনটেল পর্যন্ত তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য বাড়ির কাজ কিন্তু হচ্ছে। তিনি বলেন, যে ঠিকাদার কাজ করছেন কাউন্সিলারের স্বামী তাঁর পার্টনার। আমার পুরনো মাটির বাড়ি ভেঙে দিয়ে সেখানে সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করাচ্ছি। এখন ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমি খুবই গরিব। অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়। ঠিকাদার ও কাউন্সিলারের স্বামী সরকারি ধার্য্য টাকার থেকে আরও অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা চেয়েছে। আমি সেই টাকা দিতে পারিনি বলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমার কাছে আগে থেকে চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি গত মাসে বিষয়টি লিখিতভাবে এসডিও’কে জানাই। গত সপ্তাহে চেয়ারপার্সনকেও জানিয়েছি। কিন্তু আজও আমার কাজ শুরু হয়নি। ওরা বলে দিয়েছে কাউকে জানিয়ে কোনও লাভ হবে না। 
কাউন্সিলার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। আসলে লিনটেল পর্যন্ত টাকা এসেছে। সেই মতো কাজ হয়েছে। বাকি টাকা এলে কাজ হবে। তাঁর স্বামী বলেন, আমি কাজ করছি এটা ঠিক নয়। আমি কাউন্সিলারের হয়ে কাজ দেখভাল করি। আসলে ওঁর বাড়ির পিছনে এক আত্মীয়েরও বাড়ি হচ্ছে। জায়গা কম থাকায় সামনের বাড়ি হয়ে গেলে পিছনের বাড়ি করতে সমস্যা হবে। তাই আগে পিছনের বাড়ির কাজ শেষ করা হচ্ছে। তারপর ওঁর বাড়ির কাজও শুরু করা হবে। এতদিন টাকাও আসেনি। এবার টাকা এসেছে। কাজ শুরু হয়ে যাবে। 
তিনি বলেন, আমাদের দলেরই নেতা প্রাক্তন কাউন্সিলার শ্যামল রায় আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই সব করাচ্ছেন। শ্যামলবাবু অবশ্য বলেন, আমি ওয়ার্ডের সভাপতি, ওঁরা আমাকে মানে না। ওই উপভোক্তা আমার কাছে এসে অভিযোগ করেন। আমি তাঁকে এসডিও, চেয়ারপার্সনের কাছে যেতে বলেছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ