অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী রণকৌশলে ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয় উঠেছে রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কালীগঞ্জ ব্লকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তার সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই উপভোক্তাদের বড় অংশই সমর্থন জানাবেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী শিবির, বিশেষ করে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোট এই প্রকল্প নিয়ে নানা সময়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। ফলে মহিলা ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে তাঁদের। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে শাসক দল। মহিলা ভোট টানতে বিধায়ক কন্যা আলিফা আহমেদকে প্রার্থী করা তৃণমূলের মাস্টার স্ট্রোক।
আলিফা আহমেদ বলেন, বাবা আমাকে পড়াশোনা করিয়ে স্বাবলম্বী ও যোগ্য করে তুলেছেন। যাতে আমি নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারি। আমাদের রাজ্যের অভিভাবক তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই লক্ষ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছেন। যার জন্য প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামের মহিলারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের নিয়েই আগামী দিনে এগিয়ে যেতে চাই।
কালীগঞ্জ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালী খাতুন বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধুই আর্থিক সহায়তা নয়, মহিলাদের সম্মান ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। বিরোধীদের মন্তব্যে তাঁরা আহত হয়েছেন, সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে ভোটবাক্সে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৪৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৩৭ এবং মহিলা ভোটার ছিলেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ১০৭ জন। কিন্তু মোট ভোট পোল হয়েছিল ২ লক্ষ ৬৯১ জনের। যার মধ্যে ১ লক্ষ ২৩৯ জন পুরুষ এবং ১ লক্ষ ৪৫২ জন মহিলা ভোট দিয়েছিলেন।
মাস খানেক আগে ফের কালীগঞ্জ বিধানসভায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়। নতুন তালিকা অনুযায়ী কালীগঞ্জ বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৭০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৬৩ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ৩০৩ জন। অর্থাৎ লোকসভা নির্বাচনের সময়কার ভোটার তালিকা এবং উপনির্বাচনের ভোটার তালিকায় খুব বেশি হেরফের হয়নি।
এবার সমগ্র কালীগঞ্জ ব্লকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৯৬ জন। ব্লকের দু’টি পঞ্চায়েত নাকাশিপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত। বাকি কালীগঞ্জ বিধানসভাতেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ৮৫ হাজারের কাছাকাছি। অর্থাৎ বিধানসভা ভিত্তিক গড় মহিলা ভোট পোলের ৮০ শতাংশের বেশি মহিলা ভোটার এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। চব্বিশের নির্বাচনেও এই বিধানসভায় মহিলা ভোটব্যাঙ্ক তুরুপের তাস হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের। তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র পেয়েছিলেন ৯৪ হাজার ১৮টি ভোট। যার অধিকাংশই মহিলা ভোট। আসন্ন উপনির্বাচনেও সেই ফর্মুলাতেই বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল।
সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, মানুষের রুটি রুজি জন্য আমাদের লড়াই। সেটাই আমরা অব্যাহত রাখব। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, আমরা প্রস্তুত রয়েছি। প্রতিবার এইভাবে ভোট পাবে না তৃণমূল। কারণ মা-বোনেরাও তৃণমূলের অত্যাচরে অতিষ্ঠ।