নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে খনি অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইস্যু, ধসের পুনর্বাসন না হওয়ার দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপালো বিজেপি। সোমবার বিজেপি জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পল। কেন্দ্রীয় সংস্থার টালবাহানাতেই কাজ থমকে। পাল্টা সরব তৃণমূল কংগ্রেসও। হঠাৎই ধসের পুনর্বাসন প্রকল্প ইস্যু সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে শিল্পাঞ্চলে। এই ইস্যুতে দু’পক্ষকেই দায়ী করেছে সিপিএম।
সোমবার রানিগঞ্জ কয়লা খনি পুনর্বাসন প্রকল্প না হওয়া নিয়ে সরব হন বিজেপি নেত্রী। সংসদে বিজেপি এমপি শমীক ভট্টাচার্য রানিগঞ্জ পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী উত্তর দিয়েছেন। এদিন সেই বিষয়গুলিই তুলে ধরেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, কয়লা মন্ত্রী জানিয়েছেন পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের ৩৬২ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার এত বছর পর মাত্র ১৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। ২৯ হাজার মানুষের পুনর্বাসনের জন্য যে সার্ভে রিপোর্ট, হাউস বিল্ডিং রিপোর্ট জমা করার কথা ছিল, তাও তারা করতে পারেনি। এমনকী, পুনর্বাসন প্রকল্পে যে আবাসন নির্মাণ হয়েছিল সেখানেও বাসিন্দাদের স্থানান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু লুট ছাড়া এই সরকার খনি অঞ্চলবাসীর জন্য কিছু করেনি।
তৃণমূল বিধায়ক তথা এডিডিএর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটু পড়াশোনা করে অভিযোগ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোল ইন্ডিয়ার টাকায় এডিডিএর পুনর্বাসন দেওয়ার কথা। আমরা যখনই কোল ইন্ডিয়ার কাছে জমি অধিগ্রহণের জন্য এনওসি চাইতে গিয়েছি, তারা দেয়নি। ২০০৯ সালেই এই প্রকল্পের জন্য ২৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা। এই বছর ধরে কোল ইন্ডিয়া মাত্র ৯০০ কোটি টাকা দিয়েছে। আমরা এজেন্সিকে টাকা পর্যন্ত দিতে পারিনি, এমন পরিস্থিতিও হয়েছে। ২৯ হাজার পরিবারের মধ্যে যাদের জমি আছে, তাদের ‘লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডার’ বলা হয়। যাদের নিজের নামে জমি নেই, তাদের ‘নন-লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডার’ বলা হয়। পুনর্বাসন প্যাকেজ অনুযায়ী, নন-লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডাররা আবাসন পাবে। আর লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডাররা ক্ষতিপূরণের জন্য টাকা পাবে। লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার জন্য কোল ইন্ডিয়ার কাছে বারবার দরবার করার পরও তারা কোনও সদর্থক ভূমিকা দেখায়নি। আপনারাই এবার বিচার করুন, কাদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প সম্পন্ন হচ্ছে না।
রবিবারই ইসিএলের সিএমডি ধসের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তারপরের দিনই বিজেপি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করল। খনি অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ধসের উদ্বেগ বাড়ার জেরেই কি বিধানসভা ভোটের আগে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি?
সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মামলার জেরেই এই পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি হয়। এরপর তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পুনর্বাসন প্রকল্প থমকে দিয়েছে। আমরা চাই মানুষ দ্রুত পুনর্বাসন পাক।