Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুঁচুড়ায় ট্রেন্ডিং রথযাত্রা, জগন্নাথ মন্দির, নিমকাঠের মূর্তি, থাকবে নকল মেলা

কবি লিখেছেন, ‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি...।’ দেবতা বিষয়ক ভাবনার ভিন্নপ্রকাশ সেখানে ছিল। তাতে রথ ও মূর্তি কেউই গুরুত্ব পায়নি।

চুঁচুড়ায় ট্রেন্ডিং রথযাত্রা, জগন্নাথ মন্দির, নিমকাঠের মূর্তি, থাকবে নকল মেলা
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: কবি লিখেছেন, ‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি...।’ দেবতা বিষয়ক ভাবনার ভিন্নপ্রকাশ সেখানে ছিল। তাতে রথ ও মূর্তি কেউই গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু থিমের ময়দানে অমূর্ত তো মূল্যবান নয়। তাই রথ ও জগৎপ্রভু জগন্নাথ চুঁচুড়ার থিম পুজোর মরশুমে বিপুলভাবে বিরাজমান। দু’টি বড় বাজেটের পুজো এবার রথযাত্রা ও জগন্নাথধামকে মূল ভাবনায় রেখে পুজোর আয়োজন করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, রাজ্যে নতুন জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পরই জগৎপ্রভু ও রথকে কেন্দ্র করে চড়ছে চর্চার পারদ। তারই প্রতিফলন রথ ও রথের সঙ্গে সমর্থক দেবতাকে নিয়ে থিম ভাবনা।

Advertisement

চুঁচুড়ার তোলাফটক এলাকার মনসাতলা সর্বজনীনের থিমের নাম, রথ টানলে দুর্গা আসে। দেবী দশভুজাকে কেন্দ্র করে দর্শকদের চারদিনের অনাবিল আনন্দের পরিসর দিতে তারা সাজিয়ে বসেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিরাট পরিসরজুড়ে তৈরি হচ্ছে রথ। তাতে থাকবেন জগৎপ্রভু। রথ থাকলে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে মেলাকে বাদ দেওয়া কঠিন। ফলে মেলাও থাকবে। শুধু মেলা থাকবে তাই নয়, মেলার বিশেষ আবেদন তৈরি করতে প্রায় দু’শো মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সঙ্গে নাগরদোলা সহ নানা বিনোদনের আয়োজনকে যান্ত্রিক কায়দায় হাজির করা হবে। মেলায় শুধু বিকিকিনিটাই যা হবে না, বাকি সবই থাকবে। এমনটাই দাবি উদ্যোক্তাদের। আস্ত রথ ও মেলা যেমন থাকছে তেমন থাকছে ওড়িশার বিশেষ ছোঁয়া। দেবীপ্রতিমা এখানে মাটি দিয়ে তৈরি হলেও তার বিভঙ্গে থাকবে ওড়িশার পটচিত্রের আদল। বলা যায়, মাটি দিয়ে পটের দুগ্গা সাজিয়ে বসছে মনসাতলা সর্বজনীন। পুজো উদ্যোক্তা কাজল শেখ, মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকা সন্দীপ মালিয়ারা বলছেন, ‘দেবী ধরাধামে আসার আগে আসে রথ। সেখান থেকেই দেবী আবাহনের শুরু। সেই দু’টি বিষয়কেই আমরা থিমে ধরেছি। জগন্নাথের রথের মেলার নিখাদ অনুভূতি দিতে সবরকমের প্রয়াস করা হচ্ছে।’
চুঁচুড়ার কারবালা রোড বিবেকানন্দ রোড সর্বজনীনের এবারের পুজো আয়োজন, জগন্নাথ ধামে দুর্গাপুজো। আস্ত জগন্নাথ ধাম দেখতে পাওয়া যাবে ক্লাবের ময়দানে। সেখানে আসলের আস্বাদ দিতে নিমকাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দেবী সুভদ্রা, বলভদ্র ও জগৎপ্রভুর চির পরিচিত অবয়ব। রথ দেখতে এসে কলা বেচা, আসলে দেবী দর্শনে এসে দেব দর্শনও তাই সহজেই হয়ে যাবে। জগন্নাথ ধামের অবিকল অবয়ব ও নিমকাঠ যেমন থাকছে তেমনই দেবী দশভুজা থাকছেন পাথুরে অবয়বে। সাবেক সময় মাটির আগে দেবীর মূর্তি পাথরের গড়া হতো। সেই ভাবনা থেকে ছ’টনের আসল পাথর কুঁদে তৈরি হচ্ছে সপরিবারে থাকা দেবীর অবয়ব। প্রায় ছ’ফুট দৈর্ঘ্য প্রতিমার। উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিৎ দত্ত(বটা) বলেন, ‘নিমকাঠের জগন্নাথ আর জগন্নাথ ধামে দুর্গোৎসব, এবার দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হবেই।’
উদ্যোক্তাদের দাবি যাই হোক, জগৎপ্রভু আর রথ এবার ট্রেন্ডিং। কারণ গঙ্গা পাড়ের সাবেক জনপদ চুঁচুড়া সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে বিগ বাজেটের জোড়া পুজোর আয়োজনে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ