নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাঝসমুদ্রে বিপদে পড়া দীঘাগামী পর্যটকদের কাছে মুশকিল আসান হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর। পাথরপ্রতিমা থেকে ট্রলারে দীঘা যাচ্ছিল ২৩ জনের একটি দল। রাতে দীঘা থেকে কয়েক কিমি দূরে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিগড়ে যায়। জেলা পুলিশের ৭০৪৭৯৮৯৮০০ নম্বরে ফোন করে সাহায্যের আর্জি জানান ওই পর্যটকরা। কন্ট্রোল রুম মারফত ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় জোড়া স্পিডবোটে সিভিল ডিফেন্স টিম। বিপদগ্রস্ত সকলকেই উদ্ধার করে দীঘা মোহনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যান জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল।
মঙ্গলদীপ দাস, শুভদীপ দাস, সুকুমার জানা, তরুণ ভৌমিক, শুভজিৎ মান্না প্রমুখের এইভাবে দীঘাযাত্রার সিদ্ধান্ত যে বিরাট ঝুঁকির ছিল, প্রাণে বাঁচার পরই তাঁরা স্বীকার করেন। তবুও খানিকটা অ্যাডভেঞ্চারের নেশা এবং সময় বাঁচাতেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ দীঘা থেকে কয়েক কিমি দূরে তাঁদের ট্রলারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সমুদ্রে ঠায় দাঁড়িয়ে যায় ট্রলার। সন্ধ্যা নামার পর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভুগতে থাকেন সকলে।
খবর পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয় পুলিশ। দ্রুত সিভিল ডিফেন্স টিম পাঠিয়ে দেয় সেখানে। ২৩ জনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় দীঘা মোহনায়। ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি), দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার ওসি ঘটনাস্থলে ছিলেন। রাতে জেলাশাসকও পৌঁছোন সেখানে। ওই পর্যটকদের রাতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে ডিএসডিএ।
রবিবার মঙ্গলদীপ, শুভদীপরা বলেন, জগন্নাথ মন্দির দেখতেই দীঘায় যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সমুদ্রের মাঝে এমন বিপদে পড়ব ভাবিনি। প্রশাসন ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। ওইসঙ্গে সিভিল ডিফেন্স বিভাগের অধীন নুলিয়া ভাইদের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাদের বাঁচিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভেবেই হেল্পলাইন চালু করেছি। তাতে হোয়াটসঅ্যাপ সুবিধাও আছে। ইভটিজিং থেকে দুর্ঘটনা, হোটেল বা দোকানে হেনস্তা, কিংবা যেকোনও ধরনের সমস্যায় অডিয়ো, ভিডিয়ো, লোকেশন মেসেজ করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাথরপ্রতিমার এই পর্যটকরা যথার্থ আর্জি জানিয়েছিলেন। এতজনকে বাঁচানোয় হেল্পলাইনটি সহায়ক হল। এটাই সার্থকতা।
ডিএসডিএ’র এগজিকিউটিভ অফিসার সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, আমাদের ব্যবস্থাপনায় রাতে ওই ২৩ জনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁরা যাতে সুষ্ঠুভাবে মন্দির দর্শন করতে পারেন তার ব্যবস্থাও আমরা করেছি।