নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন ব্যবসায়ীদের হিসেবের কাজকর্ম সবই কম্পিউটারে হচ্ছে। কিন্তু তাতে নববর্ষের সময় হালখাতা বা জাবেদা খাতার বিক্রিতে খুব একটা আঁচ পড়েনি। প্রতিবছরই ব্যবসায়ীরা নববর্ষে পুজোর জন্য এই খাতা কেনেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ হালখাতা প্রস্তুতকারীর সংখ্যা কমেছে। ইতিমধ্যেই দক্ষ কর্মীর অভাবে সিউড়ির একাধিক হালখাতা তৈরির দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। এখন হাতে গোনা দু’একটি দোকান রয়েছে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের একটা অংশ কলকাতা থেকে হালখাতা আমদানি করছেন।
ব্যবসায়ী সুনীল চৌধুরী বলেন, হালখাতা তৈরির জন্য দক্ষ কর্মী এখন আর পাওয়া যায় না। পরিশ্রমের তুলনায় লাভের অঙ্ক কম। তাই নতুন করে কেউ এই কাজ শিখতেও চাইছে না। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। তবে এখনও প্রতিবছর হালখাতা তৈরির জন্য বরাত পাই।
হালখাতা বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলা নতুন বছরের প্রথমদিনই ব্যবসায়ীরা পুরনো বছরের আয়-ব্যয়, ধার-বাকির হিসেবে ইতি টানেন। সেইসঙ্গে আগে নতুন খাতায় সিঁদুরের টিপ দিয়ে নতুন বছরের হিসেবনিকেশ শুরু হতো। এখনও কিছু ব্যবসায়ী হালখাতায় হিসেব রাখেন। বাকিরা ডিজিটাল মাধ্যমে হিসেবনিকেশ রাখলেও নববর্ষে পুজোর জন্য হালখাতা কিনতে ভোলেন না। তাই চৈত্র শেষ হতে না হতেই এখনও হালখাতা কেনা শুরু হয়ে যায়। অবশ্য এখন আগের মতো দোকানের সামনে লম্বা লাইন পড়ে না। তা সত্ত্বেও চাহিদা নেহাত কম নয়। কিন্তু দক্ষ কর্মীর সঙ্কটে সিউড়িতে আর আগের মতো প্রচুর পরিমাণে হালখাতা তৈরি হয় না। বাজারের চাহিদা মেটাতে হাতে গোনা দু’একটি দোকানের দক্ষ কর্মীরা নিরলস কাজ করে চলেন। তাঁরা জানালেন, এই খাতা তৈরি খুবই সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমের কাজ। সেইসঙ্গে আয়ের অঙ্ক খুব একটা বেশি নয়। ফলে নতুন প্রজন্ম একাজে খুব একটা ঝোঁক দেখাচ্ছে না। সিউড়ির চৈতালী মোড়ে দিনভর খাতা-বই বাঁধানোর কাজ চলে। ওখানেই সুনীলবাবুর দোকান। চৈত্রের শুরু থেকেই তিনি দোকানে বসে হালখাতা তৈরিতে মন দেন। তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছেন এক ষাটোর্ধ্ব দক্ষ কর্মী। নিপুণভাবে তাঁরা লিগ্যাল সাইজ সহ লেজার ও পকেটবুক তৈরি করেন। সিউড়িতে সুনীলবাবুর মতো আরও কয়েকজন হালখাতা তৈরি করেন। তবে চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। সেজন্য কলকাতা থেকে হালখাতা এনে বিক্রি করা হয়। বিক্রেতা জয়দীপ দাস বলেন, হালখাতার চাহিদায় পাঁচবছর আগে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। তবে এর চাহিদা এখনও রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকায় কলকাতা থেকে হালখাতা আমদানি করা হয়।