রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: আকাশের মুখ ভার। খানিক মেঘলা, সূর্যের দেখা নেই। সঙ্গে ঠান্ডা কনকনে হাওয়ার দৌলতে সোমবার লন্ডনের তাপমাত্রা নেমে ৪ ডিগ্রিতে। বিদেশ-বিভুঁইয়ে এমন হাড়কাঁপানো আবহাওয়াতেও চেনা ছন্দে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর পৌনে ১২টায় হাঁটতে বেরলেন তিনি। পরনে সবুজ পাড়-সাদা শাড়ি, নীল মোটা সোয়েটার। গলায় শাল, পায়ে মোজার সঙ্গে হাওয়াই চটি। লক্ষ্য হাইড পার্ক। সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেল থেকে দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের মতো। সোজা পথে মিনিট কুড়ি সময় লাগার কথা। কিন্তু বাকিংহাম প্যালেসের ‘চেঞ্জ অব গার্ডস’ দেখে গ্রিনপার্ক, কনস্টিটিউশনাল হিলের রাস্তা ধরলেন মমতা। একটু ঘুরপথ। কমনওয়েলথ সেনাদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্মারক রয়েছে এই কনস্টিটিউশনাল হিলে। লাল ফুলের তোড়ায় সারি সারি অস্ফুট বার্তা সেই ‘ছত্রী’ স্মারকের সামনে। কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ালেন মমতা। ক্ষণিকের নীরবতা। ফের হাঁটা শুরু। হাইড পার্কে যখন পৌঁছলেন, হাসি ফুটেছে আকাশের। মেঘ সরিয়ে উঁকি মারছে সূর্য। জগিং সেরে, কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে সার্পেন্টাইন ঝিলের ধারে বসলেন একটি কফি শপে। কফি খেয়ে ফিরতি পথে হাঁটা শুরু। একই রুটে। দুপুর পৌনে দু’টো নাগাদ হোটেলে ফেরেন মমতা।
নারী ক্ষমতায়ন-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্য অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণ, সঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলন। ৪ দিনের এহেন কর্মসূচি নিয়ে রবিবার লন্ডন পৌঁছেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ ঘণ্টা বিলম্বে। বৃষ্টির জন্য সেদিন আর বাইরে বেরননি তিনি। সোমবার থেকে একেবারে পরিচিত মেজাজে। দুপুরে ঘণ্টা দু’য়েক হাঁটাহাঁটির পর বিকেল সাড়ে চারটেয় তিনি যোগ দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের আমন্ত্রণে চা-চক্রে। ইন্ডিয়া হাউজের গান্ধী হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মমতাকে স্বাগত জানিয়ে বার্তা ফুটে উঠেছিল একাধিক এলইডি স্ক্রিনে। টেবলে মুখ্যমন্ত্রীর একপাশে বসেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। অন্যপাশে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। উপস্থিত ছিলেন বঙ্গসন্তান তথা ডেপুটি হাইকমিশনার সুজিত ঘোষ এবং একাধিক ব্যবসায়ী। বৈঠকে কলকাতা-হিথরো সরাসরি বিমানের প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। চা-চক্রের মেনুতে ছিল স্যান্ডউইচ, শিঙাড়া, স্প্রিং রোল। চা-চক্র শেষে ভারতীয় হাই কমিশনারকে নিজের লেখা কবিতা বিতান বই ও নিজের আঁকা একটি ছবি উপহার দেন মমতা। বৈঠক শেষ হওয়ার মুহূর্তে কবিগুরুর ‘মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ’ গানে গলা মেলান মুখ্যমন্ত্রী। চা-চক্র সেরে মমতা সোজা ফেরেন হোটেলে। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নৈশভোজ সেখানেই। কারণ, রাত ফুরালেই যে টানা কর্মসূচি। আজ, মঙ্গলবার প্রতীক্ষিত বাণিজ্য সম্মেলন। থাকবেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের প্রতিনিধিরা। বুধবার সরকারি স্তরে বাণিজ্য-বৈঠক। পরদিন আমন্ত্রণ ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ডে।