সংবাদদাতা, বোলপুর: ভূস্বর্গ কাশ্মীর ঘুরে দেখা ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির কাছে স্বপ্নের মতো। বাঙালিরা জীবনে অন্তত একটিবার কাশ্মীর যেতে চান। তেমনটা ভেবেই আজ, শুক্রবার বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী দেবব্রত মণ্ডল নিজের পরিবার ও সহকর্মীদের নিয়ে কাশ্মীর যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন। পহেলগাঁও সহ কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘোরার কথা ছিল। কিন্তু পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নৃশংস হত্যার ঘটনায় গোটা দেশ শিহরিত। তাই তিনি তড়িঘড়ি বাতিল করেছেন ফ্লাইটের টিকিট ও হোটেল বুকিং। শুধু দেবব্রতই নয়, এই সপ্তাহেই কাশ্মীরে হানিমুনে যাওয়ার কথা ছিল বিশ্বভারতীর আর এক প্রাক্তনী বিষ্ণু থান্ডারের। টিকিট কেটে ছিলেন কয়েক মাস আগে। কিন্তু তিনিও বুকিং বাতিল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই প্রাক্তনী সহ বোলপুর-শান্তিনিকেতনের অধিকাংশ মানুষই কাশ্মীরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। পরিবর্তে, তাঁরা সিকিম, দার্জিলিং বা উত্তরবঙ্গের কোনও স্পটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ঘুরতে গিয়ে নিরাপদে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মত সকলের।
দেবব্রত বিশ্বভারতীর ভাষা ভবনের নিপ্পন বিভাগ থেকে জাপানি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাড়ির ময়ূরেশ্বর। চাকরি করছেন চেন্নাইয়ে। কিন্তু বোলপুর স্কুলবাগান থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছেন। গরমের ছুটিতে স্ত্রী তৃষিতা মিত্র ও কোম্পানির সহকর্মী সুস্মিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অন্বেষা গোস্বামী সহ মোট ১০ জন কাশ্মীর ঘোরার জন্য মার্চ মাসে টিকিট কেটেছিলেন। ১০ দিন ধরে পহেলগাঁও, সোনমার্গ, গুলমার্গ, শ্রীনগর প্রভৃতি জায়গা ঘোরার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যাওয়া নিরাপদ নয় বলে বাতিল করেছেন সমস্ত টিকিট ও বুকিং। দেবব্রত বলেন, খবর শুনেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছিল। পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে গিয়ে বিপদে পড়তে চাই না। তাই টিকিট ও হোটেল বুকিং বাতিল করে দিয়েছি। তাতে টাকা নষ্ট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অর্থের থেকে প্রাণের মূল্য অনেক বেশি। তাই কাশ্মীরের পরিবর্তে এখন তৎকালে টিকিট কেটে উত্তরবঙ্গ বা সিকিম যাওয়ার কথা ভাবছি।
বিশ্বভারতীর একই বিভাগের ছাত্র বিষ্ণু থান্ডার। বর্তমানে তিনিও চেন্নাইয়ে একটি আইটি কোম্পানিতে অনুবাদক এবং দোভাষীর কাজ করছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে করেছেন লাভপুরের দীপাঞ্জনা হাজরাকে। হনিমুনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন মিনি সুইজারল্যান্ড নামে পরিচিত পহেলগাঁওকে। আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতা থেকে শ্রীনগর ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল। বিষ্ণু বলেন, খবর শুনেই মাথায় হাত! কাশ্মীরে হানিমুনে যাওয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানে যাওয়ার আর ঝুঁকি নিতে চাইছি না। তাই নতুন করে তৎকালে সিকিম যাওয়ার টিকিট কেটেছি। পরে পরিস্থিতির স্বাভাবিক হলে কাশ্মীর যাওয়ার কথা ভাবব।
কাশ্মীরে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসীদের নির্মম হত্যালীলায় পর্যটন শিল্পে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। কারণ গরমকালে অনেকেই কাশ্মীর ঘুরতে পছন্দ করেন। তাই এই ঘটনায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। শান্তিনিকেতনের ট্রাভেল এজেন্সির মালিক গৌরব সরকার বলেন, বিষ্ণুবাবুর হনিমুনে যাওয়ার বন্দোবস্ত আমরাই করেছিলাম। এছাড়াও শান্তিনিকেতনের ২০ জনের একটি দলের প্যাকেজ সিস্টেমে কাশ্মীরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা কেউই আর সেখানে যেতে চাইছেন না। পরিবর্তে দার্জিলিং ও সিকিম ঘোরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাতে ব্যবসায় প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে।