সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া গাড়িকে দার্জিলিং পাহাড়ে পর্যটকদের নিয়ে ঘুরতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগে শিলিগুড়ির ট্যাক্সি মালিক ও চালকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে, গোটা বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার পাহাড়-শিলিগুড়ির গাড়ি চালকরা বৈঠকে বসতে চলেছেন।
গত ২৭ নভেম্বর এনজেপি স্টেশনে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে পাহাড়ের এক ড্রাইভারের সঙ্গে এনজেপি স্টেশনের এক ড্রাইভারের বচসা ও হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই পাহাড়ে শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া গাড়িকে শৈল শহরে পর্যটক নিয়ে ঘুরতে দেওয়া হচ্ছে না। ২৭ নভেম্বরের ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তি পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযুক্ত গাড়ি চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারপরেও কেন শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া গাড়িকে পাহাড়ে পর্যটক নিয়ে ঘুরতে দেওয়া হচ্ছে না? এই প্রশ্নে সরব হয়েছেন এনজেপি রেল স্টেশনের গাড়ির চালকরা।
সংগঠনের শীর্ষ নেতা উদয় সাহা বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে। আমরাও এর মধ্যে কোনও হস্তক্ষেপ করিনি। তাহলে কেন দার্জিলিংয়ে কিছু ব্যক্তির নির্দেশমতো শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া গাড়িকে পাহাড়ে সাইটসিইং করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পর্যটকরা যেমন সমস্যায় পড়ছেন। আমাদেরও রুজি রোজগারে পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সমতলের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গাড়ি, হোমস্টে, ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন জোটবদ্ধ হয়েছে। সেই মঞ্চের তরফে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, আরটিও সহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের তরফে জয়ন্ত মজুমদার বলেন, আমরা বিষয়টি প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। প্রত্যেকটি গাড়ির পারমিট যে দেওয়া হয়েছে তাতে কারও সারা বাংলার, কাউকে দার্জিলিংয়ের জেলার জন্য। তাহলে আমরা সেই পারমিট মতো দার্জিলিং পাহাড়ে গাড়ি চালাতে পারছি না কেন, এটা প্রশাসনের দেখা দরকার। আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের উপর পূর্ণ আস্থা আছে আমাদের।
এখন এনজেপি থেকে পর্যটক নিয়ে শিলিগুড়ির গাড়ি দার্জিলিং যাচ্ছে। কিন্তু দার্জিলিংয়ে পর্যটক নামিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন পর্যটককে পাহাড়ে এজন্য হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা চলতে থাকলে পর্যটকদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। সামনেই বড়দিনের পর্যটন মরশুম। তাতেই পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।
উদয়বাবুর বক্তব্য, আমাদের মধ্যে পাহাড়-সমতল বলে কোনও ভেদাভেদ নেই। এখানকার চালকরা যেমন গাড়ি নিয়ে গিয়ে পাহাড়ে চালাতেন, সেরকম পাহাড় থেকেও চালকরা গাড়ি নিয়ে এসে সামতলে চালিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি একটি ঘটনাকে ইস্যু করে পরিবেশ উত্তপ্ত করছে।
এই ঘটনায় দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠনের সমন্বয় মঞ্চের নেতা পাশাং লেপচা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে আমরা সংগঠনের তরফে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। কিছু লোক এই ধরনের কাজ করছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার আমরা শিলিগুড়ি-পাহাড়ের গাড়ির চালকদের নিয়ে বৈঠকে বসছি। আশা করি, সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে।